মাঝ পদ্মায় লঞ্চডুবির ঘটনায় মৃত ও নিখোঁজদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট। শত শত লোক পদ্মাপাড়ে ভিড় করেছেন।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ৩১টি মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার করে পাড়ে আনা হয়েছে। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় সাড়ি দিয়ে রাখা হয়েছে মরদেহগুলো।

ঘাট ঘিরে নিহতদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। এছাড়া নিখোঁজদের স্বজনরা পদ্মা পাড়ে বসে হাহাকার করছেন।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে আসা যাত্রী ঝিনাইদহের শৈলকোপার লাল্টু মিয়া জানান, তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় এমভি মোস্তফা-৩ লঞ্চটি। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু যাত্রী সাঁতরে নদী পড়ে ওঠে। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে আরো অনেককে। তবে এখনও অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে মালবাহী কার্গো এমভি নার্গিসের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে ডুবে যায় এমভি মোস্তফা-৩ নামে লঞ্চ। ঘটনার পরে শতাধিক যাত্রী সাঁতরে তীরে ওঠে। এর মধ্যে নিখোঁজ থাকে শতাধিক যাত্রী। এর মধ্যে ঘটনার পরে নারী ও ‍শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে উদ্ধারকারীরা এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নারী শিশু মিলে ৩৭ মৃতদেহ পাওয়া যায়।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরে বিআইডব্লিটিসির টাগ দিয়ে উদ্ধার শুরু করা হয়। এ কাজকে তরান্বিত করতে মাওয়া থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ রোস্তম পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। একই সঙ্গে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের রেসকিউ ও ডুবুরিদের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।

মানিকগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিটিএ, নৌপুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

জেআই