ময়মনসিংহের ত্রিশালে আটার রুটি খেয়ে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ একই পরিবারের আরো ৫ শিশু ও নারী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামের কালামের মেয়ে নাজমা বেগম (১৩), ধানীখোলা গ্রামের খলিল মিয়ার মেয়ে দিলরুবা (১০) ও শহীদের মেয়ে বিথী (৭), কালামের বৃদ্ধা শাশুড়ী সমেলা (৬৫) ।
হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা হলেন- কালামের বড় মেয়ে গর্ভবতী আসমা বেগম (২২), ছোট মেয়ে সালমা (১০), কালামের পুত্রবধূ ও আলমের মেয়ে রুমা (২০) ও রুমার বড় বোন আম্বিয়া (৪০)। এই ঘটনায় আটার দোকানদার সাইফুলকে আটক করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক প্রফেসর ডা. হানিফ মোহাম্মদ জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা এখন আশংকামুক্ত বলেও তিনি জানান।
হাসপাতালে ভর্তিকৃত রুমার পিতা মো. আলম মিয়া জানান, ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাদামিয়া গ্রামের কালাম ও তার স্ত্রী ঢাকায় থাকেন। তার তিন কন্যা ও পরিবারের অপর সদস্যরা গ্রামে থাকেন।
বুধবার কালামের শাশুড়ি পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ভালুকা থেকে ত্রিশালে কালামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। অপরদিকে কালামের ভাইরাভাই খলিল তার পরিবারের লোকজন নিয়ে কালামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে মেহমানদের খাওয়ানের জন্য কালামের পরিবারের লোকজন বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের সাইফুলের দোকান থেকে আটা কিনে আনেন।
ওই আটা দিয়ে বানানো রুটি খেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে আবুল কালামের পরিবারের ৮ সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাদের ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে সকাল ১০টার দিকে খলিলের মেয়ে দিলরুবা (১০) ও শহীদের মেয়ে বিথী (৮) মারা যায় এবং ১২টার দিকে কালামের মেয়ে নাজমা (১৩) মারা যায়।
ত্রিশাল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় দোকানদার সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। কি কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জেআই





