গত কয়েক দিন ধরে নগরীতে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে থেমে থেমে শুরু হয় বৃষ্টি। রাতভর চলার পর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে থেমে যায় তা। মাত্র এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হয় বৃষ্টি।
রাজশাহী নগরীতে ভারি বৃষ্টিপাত হলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার থেকে একটানা বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়ার কারণে কোনো কোনো এলাকায় দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজশাহীতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। আর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৯ দশমিক ২ মিলিমিটার।
রাজশাহী নগরীর উপশহর, তেরখাদিয়া, মহিষবাথান, হেতম খাঁ, রাজাহাতা, কাদিরগঞ্জ, ষষ্ঠিতলা বেলদারপাড়া, শিরোইল, ভদ্রা ও পঞ্চবটি এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে পানি জমে আছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নগরীর পাড়া-মহল্লার ভেতরের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
নগরীর বেলদারপাড়ার বাসিন্দা শাহজাহান আলী বলেন, সরকারি লোকজন নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করেন। তারা পাড়া-মহল্লার খোঁজখবর রাখেন না। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো করার প্রয়োজনই মনে করেন না তারা। কোনটা বৃষ্টির পানি, কোনটা ড্রেনের পানি কিছুই বোঝার উপায় থাকে না। খালি হাঁটতে পারছি এতটুকুই।
শিরোইল এলাকার গোলাম মোস্তফা বলেন, পাইপ লাইনের গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য সব রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে না রিকশা, না মানুষ ঠিকভাবে যেতে পারে। ষষ্ঠিতলার বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, রাতভর বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গেছে। চলাফেরায় অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর বেশকিছু এলাকায় ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এ কারণে কিছু কিছু এলাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওই কাজ শেষ হলে সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে।
এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে ঈদ মার্কেট ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে মার্কেটগুলোতে আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা।
জেআই





