সিরাজগঞ্জের ৫টি উপজেলার বন্যাকবলিত হওয়াতে সেসব এলাকার প্রায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অন্যগুলোতে শিক্ষকরা গেলেও শিক্ষার্থীরা তেমন একটা আসছে না। এ দিকে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ঘন্টায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পানি বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কজিপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) মইনুল হাসান জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১৮টি বিদ্যালয় পানিতে নিমজ্জিত থাকায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮টিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে তবে শ্রেনীকক্ষ ডুবে যায়নি। একই অবস্থা ৫টি উচ্চ বিদ্যালয়ের।
সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক) এলিজা সুলতানা জানান, ৩টি বিদ্যালয়ের পাঠদান আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সেগুলোর শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পড়ানোর চেষ্টা চলছে।
শাহজাদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) আখতারুজ্জামান জানান, উপজেলার ২২২টি স্কুলের মধ্যে প্রায় ৬০টিতে বন্যার পানি উঠেছে। তবে অন্যত্র পাঠদান চলছে।
এ দিকে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মাত্র ১টি বালিকা বিদ্যালয়ে পানি ওঠাতে পাঠদান লিখিতভাবেই বন্ধ করা হয়েছে। তবে চৌহালী ও বেলকুচি উপজেলার তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, জেলায় মোট প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ও কলেজসহ প্রায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঠদান শুরুসহ ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানানো সম্ভব হবে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় তালিকা চাওয়া হয়েছে। সরকারের বরাদ্দ সেই তালিকা মোতাবেক সরবরাহ করা হবে।
বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ভারতের আসামের পাহাড়ী ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে যমুনা নদীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা পর (সোমবার) থেকে পানি কমতে পারে।
এএইচ





