ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর জনতা বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার আসামি ধরাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হয়েছে।

এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজাপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি বিল্লাল হোসেনের ছেলে নোমান জমাদ্দার (১৮) নিহত নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে পুলিশ। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার আবদুস সালামের দাবি এজাজুল (২২) ও রেজাউল না আরও দুজন নিহত হয়ছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মামলায় বিজয়ী বিদ্রোহী নেতার দুই সমর্থককে গ্রেফতারের ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এর জেরে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

পরে পুলিশ সদস্যদের আটক করে সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ তৈরি করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে গ্রামবাসী।

খবর পেয়ে ভোলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা এএসপি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা রাত ১১টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত রাজাপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজান খাঁ পরাজিত হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী।

এরপর থেকেই রাজাপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর মধ্যে চেয়ারম্যান মিঠুসহ তার পক্ষের দুই শতাধিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গত দেড় মাসে ১২টি মামলা দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজাপুরের জনতা বাজার ফাঁড়ির পুলিশ মিঠুর কর্মী মিজানুর ও হারুনকে আটক করে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা পুলিশকে মারধর করেআসামি ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে জনতা ফাঁড়িতে হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়।

খবর পেয়ে ভোলা শহর থেকে সদর থানা ওসির নেতৃত্বে অরিক্তি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গুলি ছোড়ে।

এতে হতাহতের ঘটনা ঘটলে গ্রামবাসী আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুরের সমর্থকরা যোগ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

দফায় দফায় সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।

এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ আমিনুর ও একজন পুলিশ সদদ্যসহ চার জনকে ভোলা হাসপাতালে ভর্তি করার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এএসপি মামুনুর রশিদ বলেন, গ্রামবাসী পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করে। তারা পথে পথে গাছ ফেলে ব্যারিকেট তৈরি করে রাখে। রাত ৯টায় ওই ব্যারিকেট সরিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্র আনে।

পুলিশের ছোড়া গুলিতে একজন নিহত হওয়ার কথা শুনেছেন বলে জানান এএসপি মামুন।

এমবি