নড়াইলে বরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতানের জন্মোৎসবে চিত্রা নদীতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হ’ল ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ।   শুধু নড়াইল নয় পার্শবর্তী জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ মানুষের সমাগম ঘটে এ নৌকা বাইচ দেখতে।

নারী-পুরুষ ও শিশু-বৃদ্ধের আগমনে এ নৌকা বাইচ যেন পরিণত হয় মিলন মেলায়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ দেখতে চিত্রা নদীর দুই পাড় , বাড়ির ছাদ,গাছের ডালে বসে যে যেখান থেকে যে ভাবে পেরেছে সেভাবেই সবাই উপভোগ করেছেন ।

এ আনন্দ উপভোগ করতে সবাই সারা বছর যেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিল। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা যায় বরেণ্য চিত্র শিল্পী এস এম সুলতানের ৯২তম জন্মোৎসব উপলক্ষে প্রানআপের পৃষ্ঠপোষকতায় ও এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজন করে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নড়াইলের চিত্রা নদীতে পুরুষ ও মহিলাদের অংশগ্রহনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

নড়াইলের ফেরিঘাঁট এলাকা থেকে ছেড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দুরত্বের এসএম সুলতান সেতু পর্যন্ত নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের ১২টি ও মহিলাদের ৩টি নৌকা অংশগ্রহন করে।

শিল্পী সুলতান তার চিত্রকর্মে গ্রামীন জীবণ, জনপদ ও সংস্কৃতিকে তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিবছর তারই জন্মবার্ষিকীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পীর সেইস্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা সুলতান প্রেমী নড়াইলবাসীর।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড.শ্রী বিরেন সিকদার এমপি।

অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাড. সুবাস চন্দ্র বোস, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষ যুগ্ম সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, এস. এম. সুলতান ফাউন্ডেশনের সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু, প্রাণ ভেবারেজ লিমিটেডের চীফ অপারেটিং অফিসার মো: আনিছুর রহমান প্রমূখ।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় পুরুষদের ভাই ভাই জলপরী ( তেরখাদা খুলনা ) প্রথম ও আল্লা ভরসা (তেরখাদা.খুলনা) দ্বিতীয় এবং মা মনসা তৃতীয় স্থান অধিকার করে । মহিলাদের গানের পাখি (মুশুড়ি নড়াইল) প্রথম স্থান অধিকার করে ।

সন্ধ্যায় সুলতান মঞ্চে বিভিন্ন বিষয়ের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে স্থানীয় ও বাইরের শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এমবি