সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেল বলেছেন, জঙ্গি হামলা সংক্রান্ত সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করতে হবে।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন 'ডিকাব' আয়োজিত 'ডিকাব টক' অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, গুশলানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা অভাবনীয় ঘটনা। তবে এই ঘটনার আগে বাংলাদেশে ব্লগার, লেখক, সমকামী অধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ছোট ছোট হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অবশ্য তিনি বলেন, গুলশান হামলার পর সরকার কূটনীতিক ও বিদেশীদের জন্যে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কূটনীতিকরাও নিজেদের লো প্রোফাইলে চলাচল করছেন। নিরাপত্তার ব্যাপারে কূটনীতিকরা সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

জোহান ফ্রিসেল বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার ঘটনাসহ সকল তদন্তগুলো সফলভাবে সম্পাদন হচ্ছে। বিশেষ করে গুলশান হামলার পর সরকার গুরুত্ব সহকারে তদন্ত পরিচালনা করছে। ফলে জঙ্গিদের পুরো নেটওয়ার্ক খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের জন্যে খুব বেশি কঠিন হবে না।

'মেইক ইন বাংলাদেশ' নামে উদ্যোক্তা সৃষ্টি কার্যক্রম গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইতিমধ্যে 'মেইক ইন বাংলাদেশ' হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছেন।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ব্যাপারে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের বাইরেও শিল্প স্থাপন সহজ করতে হবে। কেননা বৃহৎ কোম্পানিগুলো রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করে থাকে। রফতানি প্রক্রিয়াকরণের বাইরে শিল্প স্থাপনে কোম্পানি নিবন্ধন সহজ করা, মেশিনারিসহ কোম্পানি শুরু করার সরঞ্জাম সহজে আমদানি করা, সহজে গ্যাস সংযোগ পাওয়া, সহজে পানির প্রাপ্যতা, কারখানা থেকে বন্দরের যোগাযোগ সহজ করা প্রভৃতি কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্কানিয়া নামের একটি সুইডিশ কোম্পানি বাস ও ট্রাক নির্মাণে শিল্প স্থাপন করছে। ফলে 'মেইক ইন বাংলাদেশ' ইতিমধ্যে হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরেও বাংলাদেশে অন্য শিল্প দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ সরকার 'মেইক ইন বাংলাদেশ' উদ্যোগ নিলে সুইডেন নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করবে।

অভিবাসন ইস্যু নিয়ে জোহান ফ্রিসেল বলেন, সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়ে একটা সম্মেলন হয়েছে। তখন থেকেই গোটা বিশ্ব এই ইস্যুতে একটি কম্প্যাক্ট সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকায় আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর যে অভিবাসী সম্মেলন হচ্ছে, সেখানেও একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা হবে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমে স্বাধীনতা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মিডিয়ার বিস্তৃতি ঘটেছে সত্যি, কিন্তু মিডিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বড় চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। ডিকাব সভাপতি আঙ্গুর নাহার মন্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।
এআই