মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় গাছকাটাকে কেন্দ্র করে মাসাদ মিয়া নিহতের ঘটনায় ৫৯দিন ধরে বাড়ির বাহিরে অবস্থান করছে বিবাদী পক্ষের লোকজন।এতে করে অনেকটা পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে গ্রামটি। এই সুযোগে বাদী ইউপি সদস্য মোশাহিদ মিয়া লোকবল নিয়ে দুই দফায় আসমীদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এ অবস্থায় বড় ধরণের ‍দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাদী পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে ৫টি বাড়ির ৩৫টি ঘর এবং আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে স্বর্ণলংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, চাউল, ফ্রিজ,কম্বল, গোলার ধান লুটের অভিযোগ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।লুটপাটে বাধা দিলে বাড়ির মহিলা ও যুবতি নারীদের অশালীন গালিগালাজ ও শারিরীক নির্যাতন করা হয়েছে।আতঙ্কে মহিলারাও বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিবাদীদের ফসলি জমির ধান,ফিসারীর মাছ,নৌকা,মাছ ধরার জালও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসকল ঘটনা ঘটেছিল গত ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায়।

গত ১ নভেম্বর করিমা বেগম বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামী করে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। (মামলা নং ৫৯৮/১৭)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামলাকারীরা আবু বক্কর মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশের ১০টি ঘরের পাকার দেয়াল ভেঙ্গে প্রতিটি রুমের সকল আসবাবপত্র, বাথ রুমের কমেড, রান্না ঘরের চুলা ভাঙচুর করে এবং ঘরের উপরের টিন কেটে ফেলে। বাড়ির উঠানে বসানো পানির টিউবওয়েলটিও খুলে নিয়ে যায়।

পাশের বাড়ির লুৎফুন নাহারের পাকার তৈরি ঘরের দেয়াল ভেঙে দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, বাথরুম ও রান্না ঘরের সকল জিনিষপত্র ভাঙচুর করে ৪ ভরি স্বর্ণ, নগদ ২০ হাজার টাকা ও ২টি ফ্যান নিয়ে যায়।

কারা হামলা করেছিল এমন প্রশ্নে ওই বাড়ির এক গৃহবধূ জানান, দরবেশ, ইউপি সদস্য মোশাহিদ, আনহার, মনসুর, রুপা, লকুছ, মুহিত, জামিল, শামিম, লিমন, সাফি, নবীরুল, আবুল ও কটু’র নেতৃত্বে ৮০/১০০ লোক হামলা করে।

হামলার বিষয়ে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য জেবী বেগম বলেন, মুহিত, লকুছ ও আসাদ এর নেতৃত্বে হঠাৎ আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের পাকার দেয়াল ভেঙ্গে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মোবাইল, নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে যায়। একই বাড়ির মৌলদা বেগম, আবিদ মিয়া, আব্দুল করিম, পাকু মিয়া ও চুনু মিয়ার ঘরেও ভাঙচুর করা হয়েছে।তিনি জানন, হামলাকারীরা মসজিদের পাশ থেকে রুমি মিয়ার ফসলি জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে।

হামলার বিষয়ে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা হলে তারা জানান, শিবলী মিয়া’র লোকেরা নৃশংস এ হামলা করেছে। ইতিপূর্বে আমাদের এলাকায় এরকম ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।

এবিষয়ে মামলার বাদী শিবলী মিয়া বলেন, আসামীরা বাহির থেকে লোক এনে আমাদেরকে ফাঁসানোর জন্য তাদের ঘর নিজেরাই ভাঙচুর করেছে।

বাদী শিবলী মিয়া’র লোকেরা ভাঙচুর করেছে এ কথা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন বলেন, হামলাকারীরা অন্য দুটি বাড়ি ভেঙে যখন আবু বকরের বাড়িতে আসে তখন আমি নিজে গিয়ে তাদেরকে বিদায় করে দিয়েছি।

ঘটনার পরে হামলাকারী ০৮/১০ জন লোককে ইউনিয়নে ডেকে আনলে তারা হামলার কথা স্বীকার করে। এসময় তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছি যাতে আগামীতে এধরনের কোন ঘটনা না ঘটায়। বৈঠকে আনহার মিয়া ও ইউপি সদস্য মশাহিদ মিয়াসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি সদস্য মোশাহিদ মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি ২ মিনিট পরে আপনার সাথে কথা বলছি বলে ফোন কেটে দেন।  

মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি মো: সোহেল আহাম্মদ শিবলী মিয়া’র লোকেরা হামলা করেছে একথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য,গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বর্তমান মেম্বার মোশাহিদ মিয়া ও রাজা মিয়া গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাসাদ মিয়া (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন। ওই ঘটনার পরের দিন মৌলভীবাজার মডেল থানায় নিহত মাসাদ মিয়ার বড় ভাই শিবলী মিয়া বাদী হয়ে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামিপক্ষের প্রায় ১৬০ জন পুরুষ গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করে।

আশরাফ আলী/জারিফ