আলোচিত দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ঘুমদুম রেল লাইন নির্মাণসহ ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪৯৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিফিং করেন পরিকল্প মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার-ঘুমধুম প্রকল্পটি ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প হিসেবে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিন বছরের মধ্যেই অন্তত: রামু-কক্সবাজার রেল লাইন তৈরির কাজ শেষ করারও নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার এবং রামু হতে মায়ানমারের নিকটবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫ কিলোমিটারসহ মোট ১২৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের যোগাযোগ স্থাপনসহ ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হবে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হচ্ছে- রেলওয়ের জন্য ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী গ্যারেজ পুনর্বাসন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন যাত্রাবাড়ী মোড় হতে ত্রিমুখী রাস্তা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

বড়তাকিয়া (আবুতোরাব) থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

সাদুল্লাপুর-পীরগঞ্জ-নবাবগঞ্জ জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৯৩তম কিলোমিটারে ২১৯ দশমিক ৪৫৬ মিটার দীর্ঘ শাহবাজপুর সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতু পুনর্বাসন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

মনু নদী সেচ প্রকল্পের আওতাধীন কাশিমপুর পাম্প হাউস পুনর্বাসন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

মাল্টি চ্যানেল সিøপওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এম আর