ক্যান্সার মানেই একটি মরণব্যাধি আতঙ্কের নাম। সারা বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ হল ক্যান্সার। শরীরের যে কোনো অঙ্গেই এ রোগ হতে পারে। তবে আজকাল শরীরে ক্যান্সার ধরা পড়ার পরও অনেকে বছরের পর বছর বাঁচছেন সঠিক ও উন্নত চিকিৎসার সুবাদে।
আমাদের দেশে সচরাচর ফুসফুসে, মুখ গহ্বরে, দাতের গোড়ায়, স্বরযন্ত্রে ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। অন্ত্রে, বৃহদান্তে, মলদ্বারেও ক্যান্সারের প্রকোপ বেড়েছে। বয়সজনিত কারণে প্রোস্টেট ক্যান্সার হয়ে থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ও জরায়ু মুখে ক্যান্সার হয়ে থাকে। জরায়ু মুখে ক্যান্সার সাধারণত পুরুষের কারণে হয়ে থাকে। বহুগামী পুরুষ এই ক্যান্সারের ভাইরাস বয়ে বেড়ায়।
যেসব কারণে ক্যান্সার হয় তার ঝুঁকিগুলোর মধ্যে ধূমপান, পান-জর্দা-তামাকপাতা খাওয়া, সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম না করা, শারীরিক স্থূলতা বা বেশি ওজন, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি, এক্স-রে রেডিয়েশন, কিছু রাসায়নিক পদার্থ, কিছু ভাইরাস বা অন্যান্য জীবাণু অন্যতম।
সাধারণত সাতটি বিষয়কে ক্যান্সারের বিপদ সংকেত বলা হয়। যেমন : খুসখুস কাশি, ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর, সহজে যদি ঘা না শুকায়, স্তনে বা শরীরে কোথাও কোনো চাকা বা পিণ্ডের সৃষ্টি, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, ঢোক গিলতে অসুবিধা বা হজম অসুবিধা, তিল কিংবা আচিলের কোনো সূক্ষ পরিবর্তন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) এর তথ্য মতে, প্রতি বছর বাংলাদেশে ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা যায় প্রতি বছর ৯১ হাজার। প্রতি বছর অসংখ্য রোগী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেও চাহিদার তুলনায় ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল।
এ রোগে বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটি ৪০ লাখ আক্রান্ত হন এবং বছরে ৮২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ক্যান্সার আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ বছর থেকে ৬৯ বছর বয়সী শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ রোগীর অকাল মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশে ক্যান্সারের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এরমধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশী। দেশে প্রায় ছয় কোটি নারী কোনো না কোনোভাবে ক্যানসার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
আক্রান্ত নারীদের অধিকাংশই ডাক্তারের কাছে আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে। তখন আসলে ডাক্তারদের আর তেমন কিছুই করার থাকে না। বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সারের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারে কোন ধরনের ব্যাথা থাকে না। যার ফলে অধিকাংশ নারীই বুঝতে পারেননা যে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।
শুধুমাত্র অভ্যাস পরিবর্তন ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি হরমোনথেরাপি, ইমিউনথেরাপি ইত্যাদির সাহায্যে অনেক ধরনের ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব। এক-তৃতীয়াংশ অনিরাময়যোগ্য কিন্তু এ সব ক্যান্সারের ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গের উপশম করা সম্ভব।
এমআর





