পয়লা বৈশাখ। বাঙালির এক চিরন্তন উৎসব। আর বর্ষবরণের এ উৎসবে রসনা বিলাসের জন্য চারিদিকে চলছে কতোই না আয়োজন। প্রাধান্যের ভিত্তিতে সকলেই খাবার তালিকায় রাখতে চাচ্ছেন পান্তা-ইলিশ। কিন্তু বাজারে গিয়ে সাধ ও সাধ্যের কাছে হার মানছেন অনেকেই। এ অবস্থা বাংলা নতুন বছরের কয়েকদিন আগে থেকেই।
ইলিশ চলে গেছে সাধারণ ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে। ফলে বাঙালির প্রাণের সার্বজনীন উৎসব পয়লা বৈশাখকে ঘিরে আনন্দ আয়োজনে ছেদ ঘটিয়েছে রূপালী মাছ ইলিশ।
এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেকেই বর্ষবরণের খাবার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন পছন্দের ইলিশ। ইলিশের নামে জাটকা মাছ কিনে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।
এতো গেলো রসনা বিলাস। এখন দেখা যাক যারা রসনা বিলাস মিটাতে পাড়লেন না তাদের পোশাকের অবস্থা। তবে এখানে দাম বেশি হলে কম দামেরও পোশাক রয়েছে। নিদৃষ্ট কোন কিছুতে কেউ আটকে নেই।
লাল পাড় আর সাদা জমিনের সুতির শাড়ি। প্রায় পুরোটাজুড়েই আঁকা ঢোল, তবলা, পাখা ও ঘুড়ি। এক কোনায় লেখা ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো..’। নগরের বিপণিবিতানে এমন একটি শাড়িতেই চোখ বুলাচ্ছিলেন গৃহবধূ সিরাজুম মুনিরা। শেষমেশ দরদামের ঝক্কিতে না গিয়ে কিনেই ফেললেন।
ওই গৃহবধূ বলেন, ‘উৎসবের রং মানেই লাল-সাদা। আর বৈশাখের প্রথম দিনে আবহাওয়া গরমই থাকে; তাই এই কাপড় স্বস্তিদায়ক হবে। পছন্দ হলো, দ্রুত নিয়ে নিলাম।’ সিরাজুম মুনিরার মতো অন্য ক্রেতারা এখন কেনাকাটায় খুব বেশি সময় ব্যয় করছেন না। পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছেন।

নগরের বিভিন্ন বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতেও চলছে বৈশাখের জমজমাট বিকিকিনি। নগরের টেরি বাজারে একটি দোকানে পাঞ্জাবি কিনছিলেন সরকারি সিটি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী শামসুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বৈশাখের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে পাঞ্জাবি কিনলাম।’
টেরি বাজারের দোকািন জসিম উদ্দিনের কাছে বৈশাখের বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে বলেন, ‘বিক্রি বেশ ভালোই হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় গত কয়েক মাস আমাদের বেশ খারাপ অবস্থা গেছে।
দোকানভাড়া তুলতেও ঘাম ঝরেছে। এবারের বৈশাখে সেই ক্ষতি হয়তো কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পারব।’
অন্যদিকে, নগরের আফমি প্লাজার দেশী দশের ফ্যাশন হাউসগুলো যেন নেমেছে পুরোপুরি বাঙালি করানোর মন্ত্র নিয়ে। ফ্যাশন হাউসের বিক্রয়কেন্দ্রে বৈশাখী পোশাকে ভরপুর। কেনাকেটাও জমজমাট।
রঙ-এর বিক্রয়কেন্দ্রে সালোয়ার-কামিজ পছন্দ করছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা শিক্ষার্থী সোনিয়া জান্নাত। তিনি বলেন, ‘এখানকার কাপড়গুলো বৈশাখের সঙ্গে বেশ মানানসই। লাল-সাদা রঙের নানা আলপনা ফুটিয়ে তোলা পোশাক কিনলাম। শুধু আমি না, আমরা বেশ কয়েকজন বন্ধুও এমন পোশাক নিয়েছে।’

রঙের ব্যবস্থাপক আশীষ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি পাঞ্জাবি-ফতুয়া থেকে শুরু করে শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ সবখানেই বৈশাখের আমেজ রাখতে। সবাই আমাদের ডিজাইন করা কাপড় বেশ পছন্দ করছেন। দামও সাধ্যের মধ্যে। তাই বেশ ভালোই বেচাকেনা হচ্ছে।’
এ ছাড়া নগরের আড়ং, শৈল্পিক, মিয়াবিবি, ডলস হাউস, রমণীয়া, মুনমুনস, অনিন্দ্যসহ প্রায় সব ফ্যাশন হাউসেও ক্রেতারা ঢুঁ মারছেন পছন্দের পোশাকের জন্য।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শাড়ি ৭০০ থেকে ৫০০০, সালোয়ার-কামিজ ৮০০ থেকে ৩০০০, পাঞ্জাবি ৭০০ থেকে ৩৫০০, ফতুয়া ৬০০ থেকে ১৫০০, টি-শার্ট ২৫০ থেকে ১০০০, বাচ্চাদের পাঞ্জবি, ফতুয়া, ফ্রক ও সালোয়ার-কামিজ পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।
পোশাক কেনার পর এবার নিয়মিত বাজারে দেখাযাচ্ছে কিছুটা বেশি। বলতে গেলে বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি শিথিল। অবরোধ আর হরতালের প্রকোপ থেকে কাঁচাবাজার ও মুদি এখন অনেকখানি মুক্ত। অন্তত কিছু পণ্যের মূল্য তেমনটাই চলছে। বাজারভেদে বেড়েছে কিছু পণ্যের দাম ও কমেছে কিছুর। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় পার্থক্য খুবই কম। মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে আবার কমেছে মাংসের দাম। প্রায় অপরিবর্তিত আছে মুদি ও কাঁচাবাজার।
ঢাকার কয়েকটি বাজারের সবজি, মাছ, মাংস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দরদাম অনেকটাই এমন- মাছ: পাঙ্গাস মাছ প্রতি কেজি ৮০-১৩০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি ১৮০-২২০ টাকা (আমদানিকৃত)' তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ১২০ টাকা, দেশি ছোট চিংড়ি প্রতি কেজি ৩০০-৪৫০ টাকা, দেশি গলদা চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি ৫৫০-৬০০ টাকা।
গোস্তের দাম দেখাগেছে: ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৩০ টাকা, লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, পাকিস্তানি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, হাঁস প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৫৫০-৬০০ টাকা।
মুদি বাজারে দেখা গেছে রসুন প্রতি কেজি ৯০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা, মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৪৮-৫২ টাকা, আদা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, মুগডাল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা, গুড়া মরিচ প্রতি ১শ গ্রাম - ৩০ টাকা, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, সরিষার তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা, তরল দুধ প্রতি লিটার ৫৯-৬২ টাকা, ডিমের হালি ৩০ টাকা।
সবজির গোল আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৫-২৫ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা।
এএইচ





