রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি,একাধিক প্লট নেয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধিসহ কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।
রাজউরেকর একাধিক সূত্র মতে, প্রধান প্রকৌশলী বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি ভরাট, পুল ও কালভার্ট নির্মাণ, লেক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কোনো কাজ পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কমিশন আদায়। নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলামের স্ত্রী সামিনা ইসলামের নামে ১০ কাঠার প্লট (সেক্টর ১১, রোড ২০৪-এর ৩০ নম্বর প্লট) বরাদ্দ নেন। অথচ তার নিজের নামে নিকুঞ্জে (দক্ষিণ) প্লট বরাদ্দ রয়েছে। আর এভাবে পরিবারের কারোর প্লট নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে,সরকারের ১৭টি বাড়ি রাজউকের মাধ্যমে বিক্রি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের। এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করে। মামলায় সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এমদাদুল ইসলামকেও আসামি করা হয়। এ মামলায় এমদাদুল ইসলাম দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের আবাসিক প্রকল্প- পূর্বাচল নতুন শহর, উত্তরা তৃতীয় পর্ব ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের প্রথমে ব্যয় নির্ধারিত ছিল ৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকায়।রাজউকের প্রধান প্রকৌলী নানা কারণ দেখিয়ে উন্নয়নের নামে ঢিলেমি করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো নেপথ্যে কাজ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের পিডি হয়ে এমদাদ নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করেছেন আকাশচুম্বী। ৪৫ লাখ টাকার ফ্ল্যাটের দাম ধরা হয়েছে ৭২ লাখ টাকা। অথচ এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য।
এদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জি এম জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রাজউকে কাজের মান ও সেবার ক্ষেত্রে কারো গাফিলতি প্রমাণিত হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, গাজীপুরের কালীগঞ্জ ও ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার ৬ হাজার ১৫০ একর জমি নিয়ে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যয় বেড়ে ৭ হাজার ৭৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ২০০২ সালে শুরু হওয়া এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১০ সালে। কিন্তু ঢিলেমি ও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে এ কাজ শেষ করা হয়নি সময়মতো। এরপর ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্তিকাল নির্ধারণ করা হয়। কিন্ত সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বর্তমানে ২০১৫ সালে পূর্বাচলের কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে রাজউক।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৩৮১ একর জমির ওপর ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্রথম ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৬ কোটি টাকা। ২০০১ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকায়।
উত্তরা মডেল টাউনের সম্প্রসারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পে ১ হাজার ৫০০ ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির সময় ধরা হয় ২০০২ সালের জুন পর্যন্ত এবং ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু এ সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ফলে তিনবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বশেষ এর সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা।
এ ব্যয় বাড়ানোর পেছনে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) এমদাদুল ইসলাম এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খানের ভাগিনা সালামসহ একটি চক্র দায়ি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পূর্ণ ন্যায়সংগতভাবে পালন করে যাচ্ছেন। তিনি কোনো প্রকার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
ঢাকা, ৩ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম/একে





