গত মে মাসে খুলনায় পাঁচটি খুন ও সাতটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া চুরি-ডাকাতি, শিশু নির্যাতন ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে অহরহ।

রোববার সকাল ১০টায় খুলনা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তফা কামাল।

সভায় আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুধুমাত্র গত মে মাসে ১৫৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। গত এপ্রিলে এ সংখ্যা ছিল ১৪৬টি। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীর আটটি দুটি খুন, দুটি ধর্ষণ, দুটি ডাকাতি, ১৪টি চুরি, অস্ত্র আইনে চারটি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনে ১২টি, এসিড নিক্ষেপে একটি, নারী ও শিশু পাচারে একটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৭টি এবং অন্যান্য ঘটনায় আরও ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।

মহানগরী ছাড়া জেলার নয়টি থানায় গত মে মাসে খুনের ঘটনায় তিনটি, ধর্ষণে পাঁচটি, চুরির ঘটনায় তিনটি, একটি দাঙ্গা, অস্ত্র আইনে চারটি, অপহরণে দুটি, নারী ও শিশু নির্যাতনে ২৫টি, নারী ও শিশু পাচারে তিনটি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৬টি এবং অন্যান্য আইনে ৭৮টিসহ মোট ১৬০টি মামলা দায়ের হয়। গত এপ্রিলে মামলা দায়ের হয়েছিল ১১৫টি।

সভায় নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় বসবাসের অনুপোযোগী ভবনসমূহ ও ভগ্নপ্রায় এবং অবৈধ স্থাপনা পরিত্যক্ত ঘোষণা করাসহ দ্রুত সিলগালা করার সিদ্ধাস্ত নেয়া হয়। এ সমস্ত ভবন থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য অচিরেই নোটিশ দেয়া হবে। এছাড় জেলার বিভিন্ন নদীতে ফেরি পারাপারে অতিরিক্ত অর্থ আদায় রোধে বাধ্যতামূলক রেটচার্ট প্রদর্শনে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

সভায় বিভিন্ন ব্রিজে টোল প্রদানে সরকারি গাড়িসমূহকে অব্যাহতি প্রদানে ব্যবস্থা নিতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে জরুরী ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কোর্টে বিচারাধীন মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তিতে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশেষ উদ্যোগে এসব মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।

সভায় নগরীর যানজট নিরসনসহ অবৈধ হকার উচ্ছেদ এবং ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির কার্যক্রম শক্তিশালী করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় খুলনার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসএম অজিয়র রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, র‌্যাব ও বিজিবি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেআই