অসময়ে ভাঙছে পদ্মা পাড়ের ভূমি। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে পদ্মার ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই মাসের অব্যাহত ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে অনেক বসতভিটা ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদীতে বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বয়ড়া ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের দড়িকান্দি, মীরডাঙ্গি, খালপাড় বয়রা, চরকান্দি বয়ড়া, জগন্নাথপুর, ভাওয়ারডাঙ্গি গ্রামে নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ সব এলাকার ৫০০ হেক্টর জমির ধান, বাদাম, ভুট্টা, পানের বরজসহ বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে চলে গেছে। শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙন কবলিত এ সব পরিবারের জন্য মেলেনি কোনো সাহায্য।

অসময়ে পদ্মার ভাঙন সর্ম্পকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন বলেন, “পার্শ্ববর্তী গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় মাঝ পদ্মায় একটি বড় চর জেগে উঠায় পানির স্রোত পাশদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই দুটি ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর থেকে হারুকান্দি পর্যন্ত নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলে ইউনিয়ন দুটিকে রক্ষা করা সম্ভব।”

বয়ড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান তুষার জানান, নদীর ভাঙনে বয়ড়া ইউনিয়ের দড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয় ভবনটি দেড় লাখ টাকায় নিলাম করা হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর মধ্যে ১৫টি পরিবারকে ২০ কেজি করে জিআর এর চাল দেওয়া হয়েছে।  তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, গত বছরের জুলাই মাসে হরিরামপুরে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এর পরপরই উপজেলার রামকৃষ্ণপুর থেকে ভাটি বয়ড়া পর্যন্ত সাত কিলোমিটার এলাকায় এই বাঁধ নির্মাণে জরিপ করা হয়। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে দুটি প্যাকেজে এই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হবে।

জেআই