নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সড়ক-মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট বসাচ্ছে সিটি করপোরেশন। এতে ঈদের সময় রাজধানী ও মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ দিকে নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময়ের আগেই কয়েকটি হাটে গবাদিপশু ওঠানো শুরু হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ২৫টি পশুর হাট বসবে, যার মধ্যে গাবতলী এবং সারুলিয়ার স্থায়ী পশুর হাটও রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে হাট বসবে ১০টি। এর মধ্যে ৯টি অস্থায়ী আর গাবতলী হাটটি স্থায়ী। প্রথমে আটটি অস্থায়ী হাট বসানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে মহাখালীর কড়াইলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানির মাঠে নতুন আরেকটি হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে ডিএনসিসি।
রায়েরবাজার কবরস্থানসংলগ্ন পশ্চিমাঞ্চল পুলিশ লাইনের জন্য নির্ধারিত খালি জমিতে হাট বসানোর অনুমতি দিয়ে পরে তা বাতিল করে ডিএনসিসি। ডিএনসিসির বসানো অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে- কুড়িল ফাইওভার-সংলগ্ন পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশের বাংলাদেশ পুলিশের হাউজিংয়ের জমি ও আশপাশের খালি জায়গা, উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের মধ্যবর্তী সেতুসংলগ্ন খালি জায়গা, খিলতে বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা, মহাখালীর কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠ, মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা, ভাষানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের খালি জায়গা, বাড্ডা (ইন্দুলিয়া, দাউদকান্দি, বাঘাপুর) পশুর হাট, আশিয়ান সিটি হাউজিং পশুর হাট ও ভাটারা (সাইদনগর) পশুর হাট।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় হাট বসছে ১৫টি। এর মধ্যে সারুলিয়ায় রয়েছে একটি স্থায়ী হাট। এ ছাড়া অস্থায়ীভাবে আরো ১৪টি হাট বসাচ্ছে ডিএসসিসি। প্রথমে ডিএসসিসির তালিকাভুক্ত হাটের সংখ্যা ১২টি থাকলেও পরে আরো দু’টি যুক্ত হয়। করপোরেশন এলাকায় নতুন আটটি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় দু’টি হাট খোলা হয়েছে। হাট দু’টি হচ্ছে শ্যামপুর ও দনিয়া। শ্যামপুর হাটটির বরাদ্দ নিয়ে শুরুতে জটিলতা দেখা দিলেও পরে তা কেটে যায়। ইতোমধ্যে নতুন এ হাট দু’টির বরাদ্দ চূড়ান্তও করেছে সংস্থাটি। তবে এখনো লালবাগ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠটির ইজারাদার চূড়ান্ত করতে পারেনি ডিএসসিসি। কাঙ্খিত দর না ওঠায় হাটটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
ডিএসসিসির চূড়ান্ত করা হাটগুলো হচ্ছে- রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজারের হাট, সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সঙ্ঘের মাঠ, ধূপখোলার ইস্ট অ্যান্ড কাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দণি দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ভেতরের জায়গা, ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা এবং শ্যামপুর ও দনিয়া হাট।
এ দিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং সেতুমন্ত্রীর বারবার আহবানের পরও সিটি করপোরেশনের স্থাপিত হাটগুলোর মধ্যে অনেকগুলো সড়ক-মহাসড়কের পাশে স্থাপন করা রয়েছে। এসব হাটের কারণে ঈদে চলাচলকারী গাড়িগুলো তীব্র যানজটের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডিএসসিসি এবারই প্রথম যাত্রবাড়ী কাঁচাবাজারের মধ্যে কোরবানির পশুর হাট বসিয়েছে। এ হাটটি ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থিত। মূল হাটের পরিধি খুবই কম হওয়ায় হাটের বিস্তার সড়কে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া দনিয়াতে স্থাপিত হাটটিও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। এ হাটটির কারণেও ওই মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কমলাপুরে স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা নিয়ে প্রথমবারের মতো স্থাপিত হাটটি সম্পূর্ণ সড়কের উপর বসবে। এ সড়কটি দিয়ে সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল করে। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে যাত্রবাড়ী-পোস্তাগোলামুখী রাজধানীর বিপুল গণপরিবহন সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এ কারণে ঈদের সময় সড়কটিতে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া অন্য সব হাটই ছোট-বড় হাটের পাশে অথবা ওপরে বসানো হয়েছে। এতে হাটসংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা চলাচলে অসুবিধায় পড়বেন।
যাত্রবাড়ী ব্যবসায়ী মালিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আরশাদ আলী আশু বলেন, যাত্রবাড়ী ও দনিয়া দু’টি হাটই মহাসড়কের পাশে বসানো হয়েছে। এতে ঈদের সময় এ দুটি সড়কে যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ দিকে অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারাদারেরা অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছেন। অনেক জায়গায় অস্থায়ী হাটের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। পশু বাঁধার জন্য সামান্য ব্যবধানে বাঁশের খুঁটি মাটিতে পোঁতা হচ্ছে। গরু ব্যবসায়ীদের বিশ্রামের জন্য আলাদা জায়গা করা হয়েছে। হাটের সুবিশাল তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে নিয়মানুযায়ী ঈদের দিন এবং এর আগের তিন দিন হাট বসানোর কথা। তবে নিয়ম লঙ্ঘন করে ইতোমধ্যে কয়েকটি হাটে কোরবানির পশু ওঠানো শুরু হয়েছে। সরেজমিন গতকাল যাত্রবাড়ী ও দনিয়া হাটে গরু উঠাতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও হাট মূল্যায়ন কমিটির সদস্যসচিব খালিদ আহমেদ বলেন, ঢাকা মহানগরীতে পশুর হাট দিলে যানজট কিছুটা হবেই। এ ক্ষেত্রে যানজট এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তার পরেও যতটা সহনীয় পর্যায়ে আনা যায় সে জন্য হাট ইজারাদারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এম এ





