অনেক চেষ্টা করেও প্রশাসক হিসেবে আর থাকতে পারলেন না ঢাকা উত্তরের প্রশাসক ফারুক জলিল এবং দক্ষিণের প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খান। তারা টানা এক বছর প্রশাসকের চেয়ারে থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু পারলেন না। তার ঢাকা সিটি করপোরেশনে মধুর স্বাদ পেয়েছেন।
১১ ডিসেম্বর ঢাকা ২ সিটির এ ২ প্রশাসক সর্বশেষ অফিস করেছেন। আর গত ৬ মাসে এ ২ প্রশাসক নানা অনিয়ম,দুর্নীতি এবং নিয়োগ বদলি বানিজ্যের এক কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন বলে জানান সিটি করপোরেশনের শ্রমিক লীগ নেতা মো. ইব্রাহিম ও আবদুর রশিদ।
জানা যায়, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা উত্তরে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে রয়েছেন: খোরশেদ আলম চৌধুরী, শাহজাহান আলী মোল্লাহ, মো. রেজা খান, মো. আক্তার হোসেন ভ’ইয়া ও ফারুক জলিল।
ঢাকা দক্ষিণে প্রশাসকেরদায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে রয়েছেন; খলিলুর রহমান, জিল্লার রহমান, মো. নজরুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. আলমগীর ও মো. ইব্রাহিম হোসেন খান।
ঢাকা এ ২ প্রশাসকের বিরুদ্ধেই নানা অনিয়ম, লোপাট, আইন ও বিধি লঙ্গন করে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলি বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। তবে ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণের প্রথম প্রশাসকে খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,প্রতারণা,ক্ষমতার অপব্যবহার এবং লোপাটের সুনিদিষ্ট অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক ফারুক জলিল এবং দক্ষিণের প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খান তাদের মেয়াদের ৬ মাসই আইন ও বিধি লঙ্গন করে ব্যাপক লোক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলির নামে গণহারে বানিজ্যের নজির স্থাপন করেন। ২ প্রশাসকই পদোন্নতি এবং বদলি বানিজ্যে সফল হয়েছেন। ঢাকা উত্তর প্রশাসক প্রথম ধাপে কর্মচারী ও শ্রমিক নিয়োগ বানিজ্যে সফল হলেও দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ১০০ জন গাড়ী চালক নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার সত্ত্বেও নিয়োগ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি।
অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের ইন্টারভিই কার্ড ইস্যু করিয়েছেন। আদালতে মামলার কারণে লিখিত পরীক্ষার তারিখ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে নিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যারফলে তিনি এ নিয়োগ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। কারণ ১১ ডিসেম্বর তাদের নির্ধারিত ক্ষমতার ৬ মাসের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যারফলে টার্গেট পুরনে তাদের পক্ষ থেকে ২ প্রশাসকদের মেয়াদ ৬ মাস থেকে এক বছর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়।
তাদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা উত্তরের প্রশাসক সকল অভিভ্ক্ত ডিসিসির ১৯৮৯ ও ১৯৯০ সালের অগ্রানোগ্রাম এবং বিধির দোহাই দিয়ে ২০১১ সালের বিভক্ত ঢাকার ২ সিটির জোড়া তালির খসড়া অগ্রানোগ্রাম এবং বিধিতে উল্লিখিত সৃষ্ট পদে নিয়োগ ও পদোন্নতির নজির স্থাপন করেছেন। পদোন্নতির সময় ফলাও করে বলেছেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এ পদোন্নতি কার্যকর হবে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডিসিসির পুরনো আইন ও বিধিকে সামনে রেখে নতুন ২০১১ সালের সৃষ্ট শূন্য পদে লোক নিয়োগে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করে লিখিত এবং পরীক্ষা নিয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ লোকনিয়োগের ইন্টারভিই কার্ড ইস্যু করেছে তবে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়েনিয়ে আগামী জানুয়ারি মাসে।
সূত্র মতে, গত ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন আমলে নেয়নি সরকার। ওই বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০১৪’ উপস্থাপন করা হলে তা গ্রহণ না করে নতুন ২ প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কারণ মাস কয়েক আগে ঢাকার প্রশাসকের অবৈধ কর্মকান্ড,ক্ষমতার অপব্যবহার,সিটি পরপোরেশনকে লোপাটের আখড়ায় পরিনত করার বিষয়টি সংসদীয় কমিটি কমিটির সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়।
এদিকে ১১ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশনে ৬ মাসের মেয়াদে সপ্তম বারের নতুন ২ প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শওকত মোস্তফাকে ঢাকা দক্ষিণ এবং পাট অধিদফতরের মহাপরিচালক রাখাল চন্দ্র বর্মণকে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী প্রশাসকদের মেয়াদ ৬ মাস নির্ধারিত রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের অপর আদেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্তকরা হয়েছে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ফারুক জলিলকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ৬ মাসের জন্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২ প্রশাসক নিযোগ হয়। ওই ধারা বাহিকতায় প্রতি ৬ মাস পর পর ২ সিটিতেই ২ জন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বের ডিসিসিকে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নামে ২ ভাগ করা হয় । একই সঙ্গে আইন পরিবর্তন করে ৬ মাস মেয়াদে প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা করে।
সর্বশেষ ২০০২ সালের ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে (ডিসিসি) সাদেক হোসেন খোকা মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার মেয়াদ শেষ হয় ২০০৭ সালে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ববর্তী মেয়রের দায়িত্ব পালনের বিধান ছিল। তবে তিনি ২০১১ সালে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়রের দায়িত্বপালন করেন।
একে,





