নির্বাচন পরবর্তী সহিংস ঘটনায় শুক্রবার সকালে শেরপুর সদর উপজেলার ভাগলগড় গ্রামে একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক ও একজন জাতীয় পার্টি সমর্থক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন একজন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জ্যোস্না বেগম নামে এক মহিলাকে আটক করেছে। এদিকে নির্বাচনে কারচুপির ঘটনায় রবিবার শেরপুরে হরতাল ডেকেছে জাতীয় পার্টি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সদর উপজেলা নির্বাচনে আ’লীগ সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থী ছানুয়ার হোসেন ছানুর সমর্থক হানিফ উদ্দিনকে শুক্রবার জাতীয় পার্টি সমর্থিত পরাজিত প্রার্থী ইলিয়াছ উদ্দিনের সমর্থক আজের উদ্দিন হানিফ উদ্দিনকে মারধর করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হানিফ উদ্দিনের দুই ছেলে ফারুক মিয়া ও সোহেল মিয়া তার বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আজের উদ্দিন ছুরি দিয়ে ফারুকের পেটে আঘাত করলে সে মারা যায়। এঘটনায় সোহেল আহত হয়। এ ঘটনায় নিহতের আত্মীয়স্বজনও গ্রামের বিক্ষুব্ধ লোকজন আজের উদ্দিনকে (৫০) গণধোলাই দিয়ে ধান ক্ষেতে ফেলে রাখে।

পরে পুলিশ আহত আজের উদ্দিনকে উদ্ধার করে দুপুরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হত্যাকান্ডের পর থেকে নিহত আজের উদ্দিনের বাড়ি থেকে সবাই গা ঢাকা দিয়েছে।

অন্যদিকে নিহত ফারুক মিয়ার বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকেই চলছে তার পরিবার পরিজনের আহাজারী আর কান্নার রোল। দুটি খুনের ঘটনার পর ভাগলগড় ও এর আশে পাশে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শেরপুর সদর থানার ওসি মাজহারুল করিম জানান, নিহত দু’জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ