পুলিশের নবনিযুক্ত আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক (বিপিএম, পিপিএম) শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানাধীন নরকলিকাতা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
তিনি ১৯৮৪ সালের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
পুলিশ সুপার হিসেবে তিনি চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডিআইজি হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একজন সফল পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
শহীদুল হক ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ কল্যাণে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং এর অন্যতম প্রবর্তক হিসেবে কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাকে জনগণের নিকট জনপ্রিয় করে তোলেন। কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে পুলিশ এবং কমিউনিটির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অপরাধ দমন ও উদঘাটন, জননিরাপত্তা বিধান এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে আমেরিকার নিউ জার্সি স্টেটের মেয়র তাকে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করেন।
চাকুরি জীবনে অসামান্য অবদান ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) এ ভূষিত হয়েছেন।
তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কম্বোডিয়া, এঙ্গোলা এবং সুদানে কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে জাতিসংঘের শান্তি পদকেও ভূষিত হন।
আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভের পূর্বে তিনি সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশ পুলিশের এ্যাডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল (প্রশাসন ও অপারেশন) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ কে এম শহীদুল হক বিভিন্ন গ্রন্থের রচয়িতা।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে- ‘কমিউনিটি পুলিশিং কি এবং কেন’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ সারগ্রন্থ, কমিউনিটি পুলিশিং কনসেপ্ট এবং বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ড বুক ইত্যাদি।
তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং তিন পুত্র সন্তানের জনক।
এমকে





