ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পাটচাষীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে খাল-বিলে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। পাট জাগ দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ভ্যান, নসিমন এবং মাথায় করে এলাকা থেকে অনেক দূরে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন তারা। এতে কৃষকরা চরম ভোগান্তির পাশাপাশি খরচও পড়ছে বেশি।
এ উপজেলার কৃষকরা মূলত পাট চাষের উপর নির্ভরশীল। চলতি বছর বৈরী আবহাওয়ায় ভাল বীজ, পর্যাপ্ত সার পাওয়া সত্ত্বেও সময় মত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষকের জমিতে পাটের ফলন আশানুরূপ হয়নি। এজন্য কৃষকরা লোকসানের সম্মূখীন হয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০ হাজার হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছে ১০ হাজার ৩ শত হেক্টর জমি। ইতিমধ্যেই পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে বিরামহীনভাবে চলছে পাটকাটা, জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো, পানিতে ধোয়া এবং রোদে শুকানোর কাজ।
তবে এ বছর প্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কম হওয়া এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের সম্মূখীন হয়ে কৃষকরা হতাশ।
উপজেলার বৃহত্তম মালীগ্রাম হাটে পাট বিক্রি করতে এসেছেন সাউতিকান্দা গ্রামের পাট চাষী হায়দার আলী। তিনি বলেন, আমি তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন বিঘা প্রতি ৮ মণ করে উৎপন্ন হলেও কম দামে বিক্রি করা এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তিনি লোকসানের সম্মূখীন হয়েছেন।
অপরদিকে পাট ব্যবসায়ী উপজেলার দিঘলকান্দা গ্রামের ওয়াদুদ মোল্লা এবং রশিবপুরা গ্রামের ওবায়দুর মাতুব্বর বলেন, পাটের চাহিদা কম থাকায় এবং মিল মালিকেরা কম দামে পাট কেনায় কৃষকেরা পাটের দর কম পাচ্ছেণ।
এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি অফিসার মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল হলেও পর্যাপ্ত সার উন্নত মানের বীজ ও কৃষি বিভাগের তদারকিতে কৃষকরা বেশি জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ভূক্তভোগী কৃষকেরা অবিলম্বে সরকারি ভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্র খুলে ন্যায্য মূল্যে পাট কেনার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





