দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে উপজেলার দৌল্লা গ্রামে নিজ খানকাহ্ বাড়িতে স্থানীয় পীর ফরাজ চৌধুরী (৬২) ও তার গৃহকর্মী রূপালীকে (১৯) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অনুমান করছে পুলিশ।
ফরাজ চৌধুরীর বুকে এবং গৃহকর্মী রূপালীর পাঁজরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। দুজনের হাতেই ধারালো অস্ত্রের জখমের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে পীর হিসেবে পরিচিত ফরাজ চৌধুরী পরিবহন ব্যবসায় জড়িত। ইতোপূর্বে তিনি রাজনীতির সত্ত্বেও সম্পৃক্ত ছিলেন এবং একবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। এরপর তিনি পীর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং দৌল্লায় তার গ্রামের বাড়ির কাছেই খানকাহ্ গড়ে তুলে মুরিদ পরিবেষ্টিত হয়ে সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। রূপালী তার ব্যক্তিগত কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার বসবাস করতো দিনাজপুর শহরে।
খানকাহ্ বাড়িটি টিনশেড পাকা ইমারত। যে ঘরে পীর ফরাজ চৌধুরী থাকতেন সেখানেই ঘরের মেঝেতে হেলান দিয়ে বসানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া গেছে। রূপালীর লাশ ছিল আরেক ঘরে। তবে দুজনের লাশের কাছে গুলির ক্যাপ পাওয়া গেলেও লাশ থেকে যে রকম রক্ত ঝরার কথা সে রকম দেখা যায়নি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য ফরাজ চৌধুরীর সঙ্গে নিকট আত্মীয়দের মতভেদজনিক কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল তার পীরালি তরিকা ও তার প্রচারিত নীতি আদর্শকে কেন্দ্র করে।
এলাকাবাসী অনেকের সঙ্গেও একই বিষয় নিয়ে তার সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভও ছিল। তবে পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ কিংবা কাদের দ্বারা হয়ে থাকতে পারে সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি। পুলিশ সুপার ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে গেছেন এবং রাত ১১টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ দুটি খানকাহ্ বাড়িতেই ছিল।
এমই





