২৫ বছরে পা রাখা ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যতোই ব্যসা-বাণিজ্য করি সবচেয়ে বড় কথা আমাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে আমরা রফতানি করবো। কিন্তু সেই রফতানি আমরা আরও অধিক দেশে করতে চাই। আমরা সব থেকে অগ্রাধিকার দিতে চাই আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে। সেজন্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে আমরা সমঝোতা স্মারক করেছি। এছাড়া দেশে যাতে বিনিয়োগ আসে সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

তৃণমূলে মানুষের ভাগ্যবদলই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার।

আগামী বছর থেকে পূর্বাচলে বাণিজ্যমেলা করার আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সারা বিশ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জন কমে গেলেও বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত আছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। সে কারণে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে কাজ করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশকে যদি উন্নত করতে হয় তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মানুষকে কর্মক্ষম করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টি করা একান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ আমরা যখন দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করলাম তখন সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশে আজ সেই মন্দা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের রফতানিও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ৮.১৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি অর্জন বৃদ্ধি করে যাচ্ছি। আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ থেকে ২০.৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।’

৩২ একর জমির ওপর নতুন রূপে সাজানো হয়েছে এবারের বাণিজ্য মেলা। মেলার প্রধান গেট সাজানো হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে, সঙ্গে থাকবে পদ্মা সেতুর মডেল। মেলায় আগত দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারী এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। খোলামেলা পরিসরে গতবছরের তুলনায় এবার স্টলের সংখ্যা কমানো হয়েছে। গত বছর মোট ৬৩০টি ছোট-বড় স্টল কমিয়ে এবার করা হয়েছে ৪৮৩টি। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভেলিয়ন ১১২টি, মিনি প্যাভেলিয়ন ১২৮টি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ২৪৩টি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২১ সালে বাংলাদেশের রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। ২০২৭ সালের পর বাংলাদেশ আর এলডিসি দেশের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। সেজন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসময়, সারা বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সহ নুতন নতুন বাজার ও অধিক পরিমাণে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করতে হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এএস