ময়মনসিংহে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাসের হার ঠিক থাকলেও ধ্বস নেমেছে জিপিএ-৫ এ। রীতিমতো অবাক করেছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।

এ কলেজে প্রতি বছর অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও এবার বঞ্চিত হয়েছে ৬ পরীক্ষার্থী। তবে র‌্যাঙ্কিং না থাকায় খানিকটা সম্মান রক্ষা পেয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটির।

জানা যায়, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৪৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে শতভাগ। তবে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪২ জন।

শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এবার ১ হাজার ১৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করেছে ১ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে ৩৯২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাশের হার ৯৯.২৩%।

মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছিল ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছে ৬৭০ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০০ জন। পাশের হার ৯৭.২৪%।

ময়মনসিংহ কেবি কলেজ থেকে ৬৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭ জন। পাসের হার ৯৪.৭৭%।

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোট ৪৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৭১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪ পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ জন। পাশের হার ৯৯.১৫%।

এদিকে পাশের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারী আনন্দ মোহন কলেজের। এ কলেজ থেকে এবার ৭৬৪ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে ৬৩৯ জন।

অকৃতকার্য হয়েছে ১২৫ জন পরীক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪২ জন। পাশের হার মাত্র ৮৩.৬৪%। এ ফলাফলে হতাশ অভিভাবকরা।

ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ৬ পরীক্ষার্থীর কাঙ্খিত ফল অর্জনে ব্যর্থতার কারণেই প্রথমবারের মতো নিজেদের নামের সঙ্গে কাজের মিল ঘটিয়ে দেখাতে পারেনি এ কলেজটি। বিশ্লেষকরা, সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিছিয়ে পড়ার কথা বলছেন।

তবে কলেজ প্রিন্সিপাল জয়নাল আবেদিন বলেন, আমাদের ফলাফলের ধারাবাহিকা রক্ষা করা হয়েছে। ৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি ঠিকই কিন্তু এটাকে কেউ খারাপ ফলাফল বলতে পারবে না। ভাল শিক্ষার্থীরা ফলাফলে ভাল করেছে, দুর্বলরা কিছুটা খারাপ করেছে।

এদিকে, এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলায় মোট কতজন পাস করেছে, পাসের হার কত, ফেল করেছে কতজন এ সম্পর্কিত কোন তথ্য দিতে পারেননি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শারমিন জাহান।

তিনি বলেন, ঢাকা বোর্ড থেকে শুধুমাত্র আমাদের কাছে কলেজওয়ারী ফলাফল এসেছে। এ কারণে ওইসব তথ্য আমাদের হাতে নেই।

এসএইচ