মাত্র ২৫ দিনের সন্তান রেখে ডেঙ্গুতে মারা গেলেন চামেলি আক্তার (২০) নামে এক মা। তার বাড়ি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালজানা গ্রামে।
চামেলি মানিকগঞ্জ মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের সহকারী নার্স ছিলেন।
বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মগবাজারের রাজমনো স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রাত ৮টার দিকে গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
চামেলি আক্তারের স্বামী সবুজ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) ডাক্তারি পরীক্ষায় তার স্ত্রীর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ওই দিনই তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি হয়। ভোরে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় পরিচিত একজনের পরামর্শে তাকে পাশের একটি কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা রোগীকে দ্রুত আইসিইউতে নেয়ার পরামর্শ দেন।
পরে রাজধানীর মগবাজারের রাশমনো স্পেশালাইজড হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় চামেলিকে। এরপর দেয়া হয় লাইফ সাপোর্টও। বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মানবেন্দ্র সরকার জানান, ওই রোগী গত ২৯ আগস্ট দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় ৩ সেপ্টেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
স্বামী সবুজ মিয়া জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে তাদের বিয়ে হয়। মাত্র ২৫ দিন আগে চামেলির কোলজুড়ে জন্ম নেয় একটি পুত্রসন্তান। যার নাম রাখা হয়েছে সায়মন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মা হারা হলেন সায়মন। চামেলি আক্তারের মা দুলালী বেগমও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। বুধবার সকাল ৯টায় তাকে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষবারের মতো মেয়েকে দেখাতে তাকে হাসপাতালে থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত মানিকগঞ্জের পাঁচ ব্যক্তিকে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। এছাড়াও মানিকগঞ্জের মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়।
এমবি





