রাজধানীর উত্তরায় গ্যাসের আগুনে দগ্ধ গৃহকর্ত্রী সুমাইয়া খানমকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধানমন্ডির সিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেছে তাঁর পরিবার। আরও ভালো চিকিৎসার জন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

সেখানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (এইচডিইউতে) রাখা হয়েছে। তাঁর শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তাঁর মেজো ছেলে জারিফ বিন নাওয়াজ। তার শরীরের ৬ শতাংশ পুড়ে গেছে।

সুমাইয়ার ভাই আবুল হাসানাত খান বলেন, ‘আমার বোন বলেছে, আমার জন্য আরও একটু ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করো। ওরা ঠিকমতো দেখতেছে না। তা ছাড়া আমরাও খেয়াল করেছি ডাক্তাররা ওর মৃত্যু নিশ্চিত এমনটা ধরেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। নার্স বা চিকিৎসকদের সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না, ড্রেসিংও করা হচ্ছে না ঠিকমতো।’

আবুল হাসানাত বলেন, ‘আমার বোনের ভাগ্যে কী আছে সেটা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তাই শেষ আশা পর্যন্ত আমরা তার ভালো চিকিৎসার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছি।’

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘দুপুর বেলা ওরা বলল নিয়ে যেতে চায়। আমরা কারণ জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু ওরা কিছু বলল না।’

ভালো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বার্নের সব ভালো ভালো চিকিৎসকই এখানে রয়েছেন। একটা জিনিস হতে পারে যে অনেক গাদাগাদির কারণে এখানে কমফোর্ট ফিল না হতে পারে।’

গত শুক্রবার সকালে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ৮ নম্বর বাড়ির সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হন সুমাইয়ার পরিবারের সবাই। দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগে ফ্ল্যাটটিতে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে ওঠেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্রকৌশলী মো. শাহনাওয়াজ (৫০)। আগুনে দগ্ধ হয়ে সুমাইয়ার ছোট ছেলে জায়ান বিন নাওয়াজ এবং বড় ছেলে শালীন বিন নাওয়াজ শুক্রবারই মারা যায়। একদিন পর গত শনিবার বিকেলে মারা যান শাহনাওয়াজ।

এমআর