“কৌশগত কারণে আমরা হিজবুত তাহরিরের অনলাইন সম্মেলন বন্ধ করিনি। বন্ধ করাটা খুব কঠিন কাজ ছিল না। আমরা তাদের সম্মেলন থেকে সনাক্ত করার চেষ্টা করেছি”। এমনটাই জানালেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

শনিবার রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের পৃথক দুই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হিজবুত তাহরিরের পাঁচ সদস্যের ব্যাপারে রোববার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডেএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, একরামুল খায়ের ওরফে অপু, মো. আব্দুল কাইয়ুম, মো. নাজমুল হাসান ওরফে নিপন, মো. ইব্রাহীম শেখ, মো. রাশেদুল ইসলাম শেখ, মো. আরিফুল ইসলাম এবং এ এস এম তারেক আমিন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, তাদের যে অনলাইন সম্মেলন হয়েছে সেটি মূলত আগেই রেকর্ডং করা ছিলো, এটি সরাসরি ছিল না। সেখানে ৬ জনকে দেখা গিয়েছে। আমরা এই সতজনের কাছ থেকে তাদের অনলাইন সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ওই ৬ জনের মধ্য থেকে ২ জনকে সনাক্ত করেছি। যাদের একজন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন এখনো পড়ালেখা করে।

এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তারা রষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছিল। এদের মধ্যে তারেক ও আরিফ Enlighted Thinker ও Asm Tareq.Amin নামে দুটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে হিজবুত তাহরিরের বিভিন্ন লিফলেট পোস্ট দেয়াসহ তাদের অনলাইন সম্মেলন আটকাতে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করে বিভিন্ন পোস্ট ও স্ট্যাটাস দিয়ে রাষ্ট্রিয় ভাবমূর্ত নষ্ট করতো। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন লিফলেট, জিহাদী বই ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের সম্মেলন কোথায় এবং কতজন উপিস্থিত ছিল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি ঢাকার আশেপাশের একটি এলাকায় হয়েছে। প্রথমে এই সম্মেলনে ৭৪০ জন উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলো ৪০০ জনের মত।

কেন তারা এই সম্মেলন করছিল- এমন প্রশ্নে যুগ্ম কমিশনার বলেন, তারা মূলত বিভিন্ন বাহিনী ও প্রশাসনে তাদের লোক ঢুকিয়ে দেশে খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর সেই লক্ষেই তারা এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় তথ্য প্রযুক্তি অইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

এমআর/ এআর