সুন্দরবনের শ্যালা নৌরুট নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে খুলনায় সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মংলা ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গত ১৯ মার্চ সুন্দরবনের শ্যালা নদীর হরিণটানা এলাকায় এমভিসি হর্স নামে একটি কার্গো কয়লা বোঝাই অবস্থায় ডুবে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশবাদীরা শ্যালা রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ করার দাবি জানান। যার ফলে গত ২৩ মার্চ নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মংলা। বন্দরের মাধ্যমে সিংহভাগ পণ্য দেশের সর্বত্র পরিবহন হয়ে থাকে এবং চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নগরবাড়ী, ঘোড়াশাল, বরিশাল, আশুগঞ্জ, সিলেট ইত্যাদি অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পণ্য দক্ষিণাঞ্চলে ব্যবহারের জন্য নদী পথে পরিবহন হয়ে থাকে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চল এবং পশ্চিম ও উত্তর অঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে নদী পথে পণ্য পরিবহনের একমাত্র রুট সুন্দরবনের শ্যালা নদী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শ্যালা নৌ রুট বন্ধ করে দেওয়ায় ৭০ শতাংশ নৌযান চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট থেকে মংলা, খুলনা, নওয়াপাড়া আসতে পারছে না; যেতেও পারছে না। ফলে জনগণের জীবন যাত্রা ও দেশের অবকাঠামো, উন্নয়ন কাজ, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি/মিলের কাজ ব্যহত হচ্ছে ও চরম জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা চ্যানেলে তেলবাহী এমভি সাউদার্ন স্টার নামক একটি ট্যাংকার দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের তীব্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২৯ দিন পর শ্যালা নৌ রুটটি ফের চালু করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে রুটটি আবারও বন্ধ করে দেওয়ায় আগের মতো মংলা বন্দরসহ দক্ষিণ অঞ্চলের মিল কলকারখানা অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একইসঙ্গে শ্যালা নদীতে যেখানে যেখানে ডুবন্ত রেক আছে দ্রুত তা অপসারণেরও দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতা এসএম আকবর হোসেন, এসএম নজরুল ইসলাম, মো. হাফিজুল ইসলাম চন্দন, মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির নেতা মো. আব্দুল গফফার, মো. খুরশিদ আলম কাগজি প্রমুখ।
ওএফ





