সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কুশখালি গ্রামে এক কেজি মাংসের জন্য শিশু ফাহিমকে হত্যার ঘটনায় আটককৃত সফুরা বেগম ও তার ছেলে ইব্রাহিমকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল হাসানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

চাঞ্চল্যকর শিশু ফাহিম হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) আবুল কালামের উপস্থিতিতে আজ এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি জানান, এ মামলার অন্যতম আসামি ইসরাফিল হোসেনকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে কারণেই আদালত ইসরাফিল হোসেনকে বাদ দিয়ে তার মা সফুরা বেগম ও ভাই ইব্রাহিম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বুধবার সকালে কারাগারে থাকা সফুরা বেগম ও তার ছেলে ইব্রাহিমকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আলোচিত এই মামলায় ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ইসরাফিলের স্ত্রী তামান্না খাতুন আগে থেকেই সবকিছুই স্বীকার করেছে। এখন এই দুইজনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অচিরেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।’

উল্লেখ্য, দুদিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি সীমান্ত সংলগ্ন গৌর ঘণ্টার পাটখেত থেকে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে শিশু ফাহিমের (৮) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. সিদ্দিক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাজারে মুজিবর রহমান নামের একজনের সাইকেল মেরামতের একটি দোকান রয়েছে। গত ১৪ জুন সকালে এক কেজি গরুর মাংস কেনেন মুজিবর রহমান। এ সময় শিশু ফাহিমকে দিয়ে ওই মাংস বাড়ি পাঠান তিনি। ফাহিম মুজিবর রহমানের বাড়ি গিয়ে দেখে তাদের বাড়িতে কেউ নেই। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা ভ্যানের ওপর মাংস রেখে চলে আসে সে।

পরে মুজিবর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি এসে দেখে মাংসের প্যাকেট কুকুরে টানাটানি করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবর রহমান ফাহিমকে ডেকে পাঠায় এবং মাংসের প্যাকেটের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। ফাহিম উত্তর দিলে মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বেদম মারপিট করে।

এতে ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে রক্ত বের হতে থাকলে রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য আঠা লাগায় মুজিবর ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাতে রক্ত বন্ধ না হয়ে উল্টো ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে চাক চাক হয়ে ওঠে। তখন কোন উপায় না পেয়ে ফাহিমকে একটি বাক্সে বন্দি করে রাখে তারা। সেখানেই মৃত্যু হয় তার।মৃত্যুর পর রাতে কোন এক সময় ফাহিমকে পাশের একটি পাটক্ষেতে ফেলে দেয় তারা।

প্রসঙ্গত, ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের ছেলে। মায়ের সাথে কুশখালি গ্রামে নানা হাজি মোহাম্মদ আলির বাড়িতে থাকতো ফাহিম। 

এফএফ/কেবি