রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়া ও আলুপট্রি এলাকা থেকে পঞ্চবটি হয়ে তালাইমারি পর্যন্ত পদ্মাপাড় ভাঙনের মুখে রয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এরপর বর্ষার পানি নামতে থাকলেও পাড় ভাঙতে থাকে। বর্তমানে পাড় থেকে নিচে পানি পর্যন্ত গভীরতা অনেক বেশি।

স্থানীয় লোকজন আশঙ্কা করছেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে ভাঙন দেখা দিলে এ এলাকার বাড়ি, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং খেলার মাঠসহ বিভিন্ন স্থাপনা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে নদীর পাড়ে স্থানীয় মুন্নুজান মাঠে এলাকার শিশু ও কিশোররা খেলাধূলা করতো। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এ মাঠের সিংহভাগ অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বাকি যেটুকু আছে, তাতেও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে খেলাধূলার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

এলাকার শিশু ও কিশোররা স্ব-উদ্যোগে মাটি কেটে মাঠটি সমান করছে, যেন তারা খেলাধুলা করতে পারে। তবে তাদের আশঙ্কা, আগামী এক থেকে দুই বর্ষা মৌসুমের মধ্যে খেলার মাঠটি বিলীন হয়ে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

এদিকে একই ধরনের আশঙ্কা করছেন নদীপাড় তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীরা। তারা বলছেন, গত কয়েক বর্ষা মৌসুম থেকে পদ্মাপাড় ভাঙছে। গত বর্ষা মৌসুমে এ ভাওনের তীব্রতা ছিল আরো ভয়াবহ। যেভাবে ভাঙছে তা অব্যাহত থাকলে অচিরেই এসব এলাকা পদ্মাগর্ভে চলে যাবে।

পাচানি পদ্মাপাড় এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিল বলেন, গত তিন বছর আগেও আমার বাড়ি থেকে পদ্মা অনেকখানি দূরে ছিল। কিন্তু ক্রমশ তা এগিয়ে আসছে। গত বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে। আগামী মৌসুমে ভাঙ্গনের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এ এলাকার বাড়িঘর এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলিন হয়ে যাবে। প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। ক্ষতি হবে কয়েক হাজার কোটি টাকার।

পঞ্চবটি এলাকার নুরুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, গত কয়েক বছর থেকে এ এলাকায় ভাঙন দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই। অচিরেই ভাঙনরোধে এ এলাকায় কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় রকমের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আমরা পদ্মাপাড় এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদের  বলেন, শুধু ওই এলাকা নয়, পবা উপজেলার হরিপুর থেকে রাজশাহী মহানগরীর ভেতর দিয়ে চলমান পদ্মাপাড় সংস্কারের জন্য চারঘাটের ইউসুফপুর পর্যন্ত একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। আশা করা হচ্ছে, এ প্রকল্পের কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যেই শুরু হবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ, সেসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেআই