কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসএসসি'র ফরম পূরণ ফি বাণিজ্য তুঙ্গে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি'র চেয়েও 'অতিরিক্ত ক্লাস' করানোর তকমা লাগিয়ে "অতিরিক্ত ফি" আদায়ে ছাত্র/ছাত্রীদের জিম্মি করে চলছে ২০১৭ ইং সালের এসএসসি' পরীক্ষার ফরম পূরণ ।
এমন অভিযোগ খোদ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ স্কুলগুলোতেই। এসএসসি'র ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে দরিদ্র অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড নির্দেশিত বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৭শ ৯৫ টাকা, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের ১ হাজার ৬শ ৯৫ টাকা বোর্ড ফি নির্ধারণ করে দিলেও ' অতিরিক্ত ক্লাস' করানোর নামে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
বোর্ড নির্দেশিত আ্যকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা, মূল সনদপত্র, স্কাউট, শিক্ষা সপ্তাহ ও স্কুলের উন্নয়ন ফি’সহ বোর্ড কর্তৃক এসএসসি'র ফরম পূরণের নির্ধারিত ফি'র সিদ্ধান্ত না মানার অভিযোগ রয়েছে উপজেলার অধিকাংশ স্কুলগুলোর মধ্যে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার প্রায় ৫০টি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্কুল কমিটির সভাপতি, পরিচালনা পর্ষদসহ স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক মনোভাবের কারণে অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ছে শিক্ষা থেকে। আর সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে অভিভাবকরা।
বাড়তি টাকা নেয়া স্কুলগুলো নোটিশবোর্ডে শুধুমাত্র বোর্ড ফি’র কথা উল্লেখ করে নোটিশ টানালেও মৌখিকভাবে অতিরিক্ত টাকার কথা জানিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকরা। কোন কোন স্কুলগুলোতে কোচিং ফি’সহ ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
অভিভাবকরা আরো জানান, অতিরিক্ত ক্লাস করানোর নাম দিয়ে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ৩ হাজার ৭শ থেকে ৪ হাজার টাকা, মফিজ উদ্দিন আহম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২শ টাকা, ভিরাল্লা এস কে উচ্চ বিদ্যালয় ৩ হাজার ৭শ থেকে ৩ হাজার ৯শ টাকা, বাকসার উচ্চ বিদ্যালয় ২ হাজার ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে।
গত কয়েক বছর যাবৎ বাড়তি ফি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে জাফরগঞ্জ গঙ্গামন্ডল রাজ ইন্সটিটিউটের বিরুদ্ধেও । ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত ফি'র চেয়েও অতিরিক্ত ডাবল ফি দিয়ে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে বাধ্য করছে স্যারেরা, দরখাস্ত নিয়ে গেলে উল্টো আরও হেনস্থার স্বীকার হতে হয়।
এসব স্কুল গুলোতে ‘কোচিং ফি’র পরিবর্তে ‘অতিরিক্ত ক্লাস’ করানোর নাম দিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য টাকা চাইলেও শিক্ষার্থীরা শুধু বোর্ড ফি দিয়েই ফরম পূরণ করছে।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার স্কুলে বোর্ড ফি’র বাহিরে কোন টাকা আদায় করা হচ্ছে না, তবে অতিরিক্ত ক্লাসের জন্য টাকা নিচ্ছি, যা সরকার অনুমোদিত। অন্য স্কুল নিচ্ছে কিনা তা আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে এবং বোর্ডের অতিরিক্ত ফি কোন বিদ্যালয় আদায় করলে বিধি মোতাবেক যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, বাড়তি ফি আদায়ের ব্যাপারে কোন অভিভাবক আমার কাছে অভিযোগ করে নাই, তাই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএনজে





