রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতাল।

সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করে মিছিল-সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন চিকিৎসকসহ কর্মচারীরা।

ফলে হরতালের মধ্যেই বিভিন্ন স্থান থেকে কষ্ট করে আসা রোগীদের চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়।

মামলা প্রত্যাহার না হলে মঙ্গলবার থেকে উপজেলা পর্যায়েও সব হাসপাতালে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আব্দুল ওয়াহাব বাদল। এতে পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে জেলার সিভিল সার্জন মৃণাল পণ্ডিত বলেন, “সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে গত ৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা করেন আইনজীবী হোসনে আরা। এতে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক, একজন নার্স, দুজন কর্মচারীকে আসামি করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, আসামিদের অবহলোয় চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর তার ভাই মুজিবুর রহমান মেরাজ এই হাসপাতালে মারা যান।

আদালতের নির্দেশে গত ২৬ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন বলেন, তারা অভিযোগের তদন্ত করছেন।

এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ আন্দোলনে নামে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতি, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মচারীরা।

জেআই