জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার দেশে শান্তিরক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
বাণীতে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সকল নির্যাতিত মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশ্বের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অবিসংবাদিত নেতা। তিনি ছিলেন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। এর স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।’
তিনি দাবি করেন,‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সকল সময়ে নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে আমি ২০১১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র বিকাশে জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন মডেল’ উপস্থাপন করেছি যা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বসম্মতিক্রমে পাস করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী মানুষের ওপর বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর যে ভয়াবহ নির্যাতন-নিপীড়ন করেছিল তা দেশের জনগণ ভোলেনি। তখন তারা ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশব্যাপী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।’
‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলা এবং দেশব্যাপী ৫০০ স্থানে সিরিজ বোমা হামলা তারই উদাহরণ। এ সময় জোট সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বাংলা ভাইয়েরা দেশজুড়ে ভীতির সঞ্চার করেছিল’ যোগ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট একই কায়দায় ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে দেশব্যাপী নৈরাজ্য চালায়। দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর তারা অমানুষিক নির্যাতন করে। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে। অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারো সরকার পরিচালনা করছে। আমরা নির্যাতন-নিপীড়ন ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে আইনের শাসনকে সমুন্নত রেখেছি। নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করেছি। আইনের প্রয়োগ জোরদার করেছি। আমাদের সরকার দেশে শান্তিরক্ষা ও নির্যাতন প্রতিরোধে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবসের প্রাক্কালে সকল ধরনের নির্যাতন বন্ধে বিশ্ববাসীকে আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কেএইচ





