নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার ওসি এনামুল কবিরকে ৫০ হাজার টাকা গ্রেফতার বানিজ্য দেওয়ার পরও রেহাই পায়নি জামায়াত সমর্থক মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়া (৩০)।

শুক্রবার দুপুরে মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার মিজানুর রহমানকে একটি বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে একই ইউনিয়নের তোরাব আলী গ্রামের মফিজ উল্লার ছেলে ওয়ারেন্ট আসামী যুবলীগ ক্যাডার নুরুল আফসার থানায় সংবাদ দিয়ে গ্রেফতার করায়।

মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়াকে পুলিশ থানায় ১লাখ টাকা ঘুষ না দিলে তাকে মামলায় জড়িয়ে জেলা কারাগারে প্রেরন করার হুমকি দিয়ে ওসি মারধর করে।

রাতেই মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়ার ভাই আব্দুল মন্নান মানিকসহ আত্মীয় স্বজনেরা অবস্থা বেগতিক দেখে ওসিকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। তার পরও শনিবার সন্ধ্যায় বিষ্ফোরক আইনে জি আর ৫৪/১৫ ও ঘর অগ্নিসংযোগ ১২২৭/১৫ এ দুই মামলায় জড়িয়ে জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে প্রেরন করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞ বিচারক মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়ার জামিন বাতিল করে জেলা কারাগারে প্রেরন করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ইউনিয়নে প্রবাসীরা বাড়িতে নতুন বসত ভবন, বাজারে দোকান নির্মানে ওয়ারেন্ট আসামী যুবলীগ ক্যাডার নুরুল আফসারকে দিতে হয়েছে মোটা অংকের চাঁদা। চাঁদা না দিলে নুরুল আফসার ও তার বাহিনীরা বসত ভবন ও দোকান নির্মান করতে বাধা দেয়।

অপরদিকে নুরুল আফসার বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক কর্মীদের গ্রেফতারের সোর্স ও কমিশন নিয়ে কাজ করে থানার ওসির। ভুক্তভোগীরা নুরুল আফসারের বিরুদ্ধে থানায় ও কোর্টে চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী আইনে ৬-৭ টি মামলা করেছে।

নুরুল আফসার ওই মামলায় কোর্টে হাজিরা না দেওয়ায় ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও রহস্যজনক কারনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি।

মেম্বার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা না থাকায় শুক্রবার দুপুরে ওই ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নুরুল আফসারসহ দুজনেই যোগ দেয়।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে ওয়ারেন্ট আসামী যুবলীগ ক্যাডার নুরুল আফসার বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মেম্বার মিজানকে গ্রেফতার করতে থানায় সংবাদ দেয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওয়ারেন্ট আসামী নুরুল আফসারকে গ্রেফতার না করে মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে রাতে ওসির নির্দেশে মারধরে ১লাখ টাকা ঘুষ না দিলে তাকে খুন, বিষ্ফোরক, পুলিশের কাজে বাধাসহ একাধিক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়।

অবস্থা বেগতিক দেখে মেম্বার মিজানুর রহমান জিয়ার ভাই আব্দুল মন্নান মানিকসহ আত্মীয় স্বজন ৫০ হাজার টাকা ওসিকে ঘুষ দিলেও বিষ্ফোরক ও ঘর অগ্নিসংযোগ ২ মামলায় জড়িয়ে জেলা কারাগারে প্রেরন করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার পুলিশ জানান, ওসি এ থানায় যোগদানের পর থেকে গত ২ বছর ধরে মামলা ও গ্রেফতার বানিজ্য, মদ গাঁজা, ফেনসিডিল সিন্ডিকেটদের সাথে সখ্যতা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টাকা ছাড়া ওসি কোনো মামলাই রেকর্ড করে না।

একই উপজেলার গত ৫ জানুয়ারী চরজব্বর ইউনিয়নের চরজব্বর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্লার কিশোরী মেয়ে (১৮) কে একই গ্রামের সেকান্দরের ছেলে যুবলীগ ক্যাডার আবুল বাশার ধর্ষনের ৪২ দিন পরও ওসিকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় মামলা রেকর্ড করেনি।

এদিকে চরজব্বর থানার ওসি এনামুল কবির জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ এটা চিরাচরিত কথা। পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাকে ১লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে এ থানায় যোগদান করা হয়েছে। এ ঘুষের সাথে উপজেলা আওয়ামীলিগ, যুবলীগ ও ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মীদেরকেও কমিশন দিতে হয়।

এমকে