রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্ব রোড এলাকার একটি বাসায় সরকারি তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে (২০) রাতভর ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার দুপুরে ওই মেয়েকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে আসলে তিনি এমন অভিয়োগ করেন বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোজাম্মেল হক টাইমনিউজবিডিকে নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, ওই মেয়ে তিতুমীর কলেজে পড়া অবস্থায় পুলিশের সোর্স আরিফুল ইসলাম সবুজ নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনেকদিন মেলামেশার সুযোগে মেয়েটি বুঝতে পারে, সবুজ বিবাহিত। তার দুটো বাচ্চাও রয়েছে। এ অভিযোগে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের ভাটা পড়ে।

মঙ্গলবার বিকালের দিকে সবুজ মেয়েটিকে ফুসলিয়ে আরো দু’জন বন্ধুসহ ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড কাজী বাড়ি পানির ট্যাঙ্কি সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে তাকে জোর করে আটকে রাখে। সারারাত তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে সবুজ তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সেই চিত্র মোবাইলে সবুজের দুই বন্ধু মিলে ভিডিও ধারণ করে।

সবশেষ আজ সকালের দিকে মেয়েটিকে সবুজ বলেন, ‘তোমার কে আছে তাকে ফোন করো, তোমাকে এসে নিয়ে যাবে। আর তোমাকে ধর্ষণ করার চিত্র মোবাইলে ভিডিও করা হয়েছে। এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করো না। পুলিশকেও বলবে না। বললে মোবাইলে ধারণকৃত চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো।’

এরপর মেয়েটি হৃদয় নামে এক প্রতিবেশী বন্ধুকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। হৃদয় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে ঢামেক পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ মোজাম্মেল হক জানান, মেয়েটিকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। ভাটারা থানায় খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আসলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ভাটারা থানায় যোগাযোগ করা হলে এসআই সুজন (অপারেটর) টাইমনিউজবিডিকে জানান, ঘটনার খবর পেয়েছি। এসআই নজরুল নামে একজন অফিসার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমআর/কেএইচ