ফরিদপুরের রথখোলা ও সিঅ্যান্ডবি ঘাট যৌনপল্লী থেকে গত দুই বছরে ৪৩ জন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে।এর মধ্যে সর্বশেষ গত বুধবার বগুড়া ও ফরিদপুরের দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
বিভিন্ন সময় নানাভাবে দেখিয়ে তাদের যৌনপল্লীতে পাচার করা হয়েছিল। যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা শাপলা মহিলা সংস্থার প্রকল্প কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান।
প্রশান্ত কুমার সাহা জানান, বগুড়ার ১৫ বছরের ওই কিশোরী মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাইলে দালালদের খপ্পরে পড়ে। দালালরা তাকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরের যৌনপল্লীতে এনে বিক্রি করে দেয়।
অপরদিকে ফরিদপুরের ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে তার বাবা-মায়ের অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রতাকর চক্র ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়।
পরে তাকে ফরিদপুরের যৌনপল্লীতে আনা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত দুই বছরে উদ্ধার হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ৩৭ জন কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছয়জনকে এখনো পরিবারের কাছে পাঠানো যায়নি। তাদের বর্তমানে সমাজসেবা বিভাগের সেইফ হোমে রাখা হয়েছে।
শাপলা মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক চঞ্চলা ম-ল জানান, কখনো ভাল চাকরি আবার কখনো প্রেমের ফাঁদে ফেলে এসব কিশোরীদের নিয়ে আসা হয়। এক পর্যায়ে তাদের যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়।
এই চক্রের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় পাচার বন্ধ হচ্ছে না। খবর পাওয়ার পর ওই তাদের উদ্ধার করতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। আর পাচার হওয়া এ সব নারীদের বেশিরভাগই কিশোরী।
সংস্থাটির উপদেষ্টা শ্যামল প্রকাশ অধিকারী জানান, সংস্থাটি ফরিদপুরের দুটি যৌনপল্লীর সুরক্ষা ও নতুনদের আগমন রুখতে ১৯৯৭ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমানে সংস্থাটি আরশি প্রকল্পের আওতায় দুটি যৌনপল্লীসহ ১৩ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ২২টি হোটেলে কর্মরত নারীদের সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এমআর





