ঈদুল আজহার ছুটি সামনে রেখে সপ্তাহের শেষ দিনে ঢাকা ছাড়ছেন সাধারণ মানুষ। ট্রেন স্টেশন ও বাস টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। তবে বৃষ্টি আর যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের।

এর যে প্রভাব পরেছে ট্রেনও। ঈদযাত্রায় শিডিউল ঠিক রাখতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিছু ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও অনেক ট্রেন শিডিউল মেনে চলতে পারছে না। ফলে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষ স্টেশনে বসেই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকাল বুধবার বেলা একটা থেকে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৭ আগস্ট) রেলের ঈদ সেবার প্রথম দিন অনেকটা সময়মতোই ছেড়েছে ট্রেন। কিন্তু দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এসে সেই শিডিউল ধরে রাখতে পারছে না।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেল স্টেশনে ঘর মুখো যাত্রীদের ঢল নামে। সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি আর রাস্তার জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বাড়ে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ে।

তবে রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদযাত্রায় প্রচুর যাত্রীর চাপ থাকায় ট্রেনের গতি যেমন কম থাকে, তেমনি প্রতি স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামা করতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি লাগছে। এজন্য মূলত শিডিউল বিপর্যয় দেখা দেয়।

একইভাবে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার সময় সকাল ৬টা ২০ মিনিট। প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি করে ট্রেনটি সকাল সোয়া ৮টায় কমলাপুর ছেড়েছে।

চিলাহাটিগামী নীলসাগর সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও পৌনে ১১টার দিকে কমলাপুর ছেড়েছে। একইভাবে মহুয়া এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেসও দেরি করে ছেড়েছে।

নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী রবিন বলেন, প্রায় ১৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অনেক কষ্ট করে ট্রেনের টিকিট কেটেছি। কিন্তু যাত্রা বেলায়ও দুর্ভোগ কষ্টকর।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে গতি কম ও স্টেশনে যাত্রী বেশি থাকায় ওঠা-নামা করতে সময় বেশি লাগে। এজন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে ট্রেনের যাত্রা দেরিতে না হয়।

এদিগে ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল আবার শুরু হয়েছে। এর আগে নাব্যতা সঙ্কটে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট বন্ধ হয়ে যায়।

এএস