প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন আনা হবে।’
একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাবের ওপর সংসদ নেতার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের কোথাও জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের সামান্য আলামত পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। এ ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এর বিরুদ্ধে দেশের সব মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এ ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আর দেখতে চাই না। বাংলাদেশকে আমরা উন্নত ও শান্তির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ এবং শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতক পুড়িয়ে হত্যার মতো ঘটনার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ।
১৪৭ বিধিতে আনা প্রস্তাবটির ওপর বক্তব্য দেন সরকার ও বিরোধীদের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। এ সময় শ্রীলঙ্কার সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জায়ান চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানান সংসদ সদস্যরা।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা, এইভাবে যদি একটি রাজনৈতিক দল অগ্নিসন্ত্রাস না করতো, যদি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা না করতো তাহলে হয়তো নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার কথা মাথায় আসতো না।
আজকে সকলকেই এই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-অগ্নিসন্ত্রাস, রেপ বা যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সকলকেই সোচ্চার হতে হবে। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সেটাই চাই। এখানে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে মানবতার কথা বলবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারাই এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকবে দলমত নির্বিশেষে, কে করছে তা আমি দেখব না। সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারাই এ ধরনের যৌন নিপীড়ন করবে তাদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, সেজন্য প্রয়োজনে আমরা আইনে পরিবর্তন আনব।’
একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর ভূমিকার পাশাপশি জনগণের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
এএস





