তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নের দাবিতে তামাকবিরোধী ১২টি সংগঠন রোডশো ও মানববন্ধন করতে যাচ্ছে আগামীকাল সোমবার থেকে।

রোববার তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষে তামাকবিরোধী সংগঠন ‘প্রজ্ঞা’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী ১৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশে সব তামাকপণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়নের দাবীতে ১৪ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রোডশো আয়োজন করেছে তামাক বিরোধী ১২টি সংগঠন।

সংগঠনগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, এসিডি, ইপসা, সীমান্তিক, উবিনীগ, ইসি বাংলাদেশ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, প্রত্যাশা, এইড ফাউন্ডেশন ও প্রজ্ঞা।

রোডশোর অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর নমুনা সম্বলিত ৫টি ট্রাক মিউজিক্যাল কনসার্টসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান উত্তরা, গুলশান, মিরপুর, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কাকরাইল, আজিমপুর, বঙ্গবাজার মার্কেট ও গুলিস্থান এলাকা প্রদক্ষিণ করবে।

এ সময়ে সচিত্র সতর্কবাণী সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হবে। রোডশোর শেষ দিন বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে রোডশোর সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর গুরুত্ব সারাবিশ্বে স্বীকৃত কারণ, একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়ে অধিকতর কার্যকর।

গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক এক প্যাকেট সিগারেট ব্যবহারকারী একজন ধূমপায়ী সিগারেট কেনা ও ব্যবহার করার সময় দিনে কমপক্ষে ২০ বার, বছরে ৭ হাজার বার সিগারেটের প্যাকেটে ছাপানো ছবি দেখে থাকে।

তাই স্বাস্থ্য সতর্কবাণী এমন একটি কার্যকর এবং সরকারের জন্য সাশ্রয়ী পন্থা যা তামাক ব্যবহারের সময় প্রতিবারই ব্যবহারকারীকে তামাকের ক্ষতি সম্পর্কিত বার্তা প্রদান করতে থাকে।

'তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৩’ ও এর বিধিমালা, ২০১৫ অনুযায়ী আগামী ১৯ মার্চের মধ্যে সব তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার দুপাশে উপরিভাগে ৫০ শতাংশ জায়গা জুড়ে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কিত রঙ্গিন ছবি ও লেখা সম্বলিত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক রয়েছে। বাংলাদেশে এই উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক বেশি কারণ, এদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লেখা-পড়া জানেন না।

আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে তামাকের প্রচার নিষিদ্ধ থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো তামাকপণ্যের মোড়ককে বিজ্ঞাপনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তাই সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী মুদ্রণ করা হলে তাদের সেই ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে।

এ কারণেই সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে এসেও তামাক কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রের এই বিধান প্রতিপালন না করতে গড়িমসি করছে।

তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে দেশে প্রতিবছরেএক লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। পঙ্গুত্ববরণ করে আরও ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ। আইন অনুযায়ী সঠিক পন্থায় ও সঠিক সময়ের মধ্যে দেশে তামাকজাত পণ্যের মোড়কে ছবিযুক্ত স্বাস্থ্য সতর্কবাণী প্রচলন না করা গেলে এদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

 

এআই