ঢাকা-বরিশাল রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চে দুই বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে প্রতিবাদ করায় মাসুদ নামের এক যুবককে মারধর করেছে বখাটেরা। এ ঘটনায় চার বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশালে আসা কীর্তনখোলা-২ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতের নাম মাসুম। তিনি কুষ্টিয়া জেলার আল আমপুর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে। তাকে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আটককৃত বখাটেরা হলো বরিশাল নগরীর কালিবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা মাইকেলের ছেলে ম্যাক্সওয়েল, কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের নুরুজ্জামানের ছেলে আহমিদ, ফকিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জসীম মিয়ার ছেলে রাব্বি ও রাজিল।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, কলেজছাত্রী ও তার বোনের সঙ্গে শ্লীলতাহানির অভিযোগে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চ থেকে তিনজনকে এবং সকালে টার্মিনাল এলাকায় পুনরায় হামলার ঘটনায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে।

ভিকটিম ও তার বাবা থানায় এসেছে। তারা বাদী হয়ে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যথায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

ওই ছাত্রী জানান, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি ও তার বোন ঢাকায় যান।

ঢাকা থেকে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের কেবিনযোগে বরিশালে ফেরার পথে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে সে ও তার বোন টয়লেটে যাওয়ার জন্য কেবিন থেকে বের হতে চাইলে বখাটে যুবকেরা জোরপূর্বক কক্ষের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।

এ সময় সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তখন লঞ্চের পাশে চেয়ারে বসে থাকা যাত্রী মাসুদ বখাটেদের কর্মকাণ্ডে বাধা দেয়। এতে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাসুদকে মারধর করে। পরে লঞ্চের মাস্টার ও আনসাররা এসে তিন বখাটে যুবককে আটক করে।

এদিকে, সকালে লঞ্চ বরিশালের ঘাটে এলে ফের বখাটেদের বন্ধুরা মাসুদকে মারধর করে। একপর্যায় ওই দুই বোনের ওপর হামলা চালাতে গেলে স্থানীয়রা ধাওয়া করে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়।

এমকে