নৌ মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থাগুলোর আগাম ঘোষণা থাকলেও গতকাল রোববার ঈদে ঘরমুখী প্রতিটি লঞ্চ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী নিয়ে সদরঘাট ছেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে বাড়তি টাকা গুনে যাঁরা কেবিনের যাত্রী হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও স্বস্তি ছিল না। কেবিনের সামনে চাদর পেতে যাত্রী বসানো হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে গত মাসের শেষ দিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থা, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সমন্বিত বৈঠকে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না দেওয়ার ঘোষণা ছিল। বাস্তবে দেখা গেছে, টার্মিনাল ছাড়াও বেশির ভাগ লঞ্চ বুড়িগঙ্গার মাঝখানে গিয়ে খেয়ানৌকার যাত্রী নিয়েছে। যদিও বিভিন্ন নৌপরিবহন সংস্থা, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, র্যা ব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ টার্মিনালে তৎপর ছিল।
গতকাল দুপুরে সদরঘাটে গিয়ে পটুয়াখালীগামী এমভি অভিযান-৭, যুবরাজ, হুলারহাটগামী মর্নিং সান, মাদারীপুরগামী শুভরাত, জাহিদ, বরিশালগামী সুরভী-৮, রাজদূতসহ বেশ কয়েকটি লঞ্চকে অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা যায়। জানতে চাইলে অভিযানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যাত্রীরা কথা শোনেন না। জোর করে উঠে যান।
অন্যদিকে ওই লঞ্চেরই একজন কেবিনযাত্রী রকিবুল হাসান অভিযোগ করেন, বাড়তি টাকায় কেবিন নিয়েও স্বস্তিতে যেতে পারছেন না। তাঁর কেবিনের দরজার সামনে চাদর পেতে যাত্রী বসানো হয়েছে। কেবিনের ভেতরে তাঁর পরিবার প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক আবু জাফর হাওলাদার বলেন, মালিকদের অতিরিক্ত যাত্রী নিতে নিষেধ করা হয়েছে। নৌপুলিশ সুপার হাতেম আলী বলেন, সবাই মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল করছে কি না—এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম বানু বলেন, সব বিষয় পরীক্ষা করে তবে লঞ্চগুলোকে ঘাট ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে। লঞ্চমালিকদের সমিতি অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সভাপতি মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, কোনো কোনো লঞ্চ রয়েছে, যেগুলোতে ১০ হাজার যাত্রী নিলেও কোনো সমস্যা হবে না। সুতরাং ভয়ের কিছু নেই।
গত বছর ঈদুল ফিতরে সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় দুটি লঞ্চের চাপে নৌকাডুবিতে ইব্রাহিম নামের এক হকার মারা যান। এবার ঈদুল আজহায়ও বেশির ভাগ যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টার-চালক টার্মিনালে লঞ্চ নোঙর করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। গত শনিবার সকালে এমভি ঈগল ও মর্নিং সান টার্মিনালের ৬ নম্বর পন্টুনে ধাক্কা দিলে পন্টুনটি ভেঙে যায়। পরে পন্টুনটি মেরামত করা হলেও গতকাল খুলে দেওয়া হয়নি। প্রায় দেড় শ বর্গফুট লাল ফিতার ঘেরা দিয়ে যাত্রী বা সাধারণের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই পন্টুনের সামনে বরিশালসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন লঞ্চ ভিড়ে থাকে। গতকাল এসব লঞ্চ এলোমেলো ছড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের বাড়তি বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের উপপরিচালক রফিকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পন্টুনটি এখন পর্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টার্মিনালে আমতলী, ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া রুটের লঞ্চ দেখা গেল না। অথচ এসব লঞ্চের হাজার হাজার যাত্রী উপস্থিত হয়েছেন। কয়েকজন যাত্রী জানান, তাঁরা চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন।
বিআইডব্লিউটিএর হিসাবে গতকাল ভোর পাঁচটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ৭৯টি লঞ্চ ঢাকা ছেড়েছে। ঢাকায় এসেছে ২৭টি লঞ্চ।
এম এ





