করোনাভাইরাস প্রতিরোধ আইন না মানলে ৩ মাসের কারাদণ্ড গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। সমপ্রতি জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকা সত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। সুত্র Bangladesh Administrative Service।

এ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে মাগুরাতে বিদেশ থেকে প্রত্যাগত কিছু প্রবাসী মাগুরা শহরে প্রকাশ্যে ঘূরে বেড়াচ্ছেন। প্রশাসনকে না জানিয়েই। ঝুঁকিপুর্ন দেশ সৌদি আরব,ইতালি,চীন ফেরত ও আছেন এ সারিতে। যদিও তাদের অনেকেই মাগুরাতে ১৫ দিনের বেশি আগে এসেছেন। কিন্তু এর থেকে কম সময়ে ঝুকিঁপূর্ন দেশ থেকে যারা মাগুরাতে এসেছেন,তাদের অনেকেই নিজেকে সুস্থ্য বলে ঘোষনা করে ঘূরে বেড়াচ্ছেন,
যা বেশ ঝুঁকিপূন বলে চিকিৎসকেরা জানায়।

মাগুরা সিভিল সাজন প্রদীপ কুমার সাহা জানান, নিজেকে সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে এবং পরিবার তথা সমাজকে সুস্থ্য রাখতে প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে। কারন কে কোন দেশ থেকে এসেছেন এবং আসছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান এই মুহুর্তে জানা যাচ্ছে না।

যারাই আসবেন বিদেশ থেকে তারা যেন কোয়ারেন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করেন । সতর্ককতার সাথে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ঠিক কত জন প্রবাসী মাগুরাতে এসেছেন তা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে সতর্কতা দরকার প্রবাসী সহ পরিবারের।

ঝুকিপূর্ন দেশগুলো থেকে কিছু প্রবাসী মাগুরাতে এসেছেন কিন্তু তারা স্বঘোষিত সুস্থ্য দাবী না করে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যোগাযোগ করে নিজেকে পযর্বেক্ষনে রাখতে পারে। এতে তার ও ভাল এবং প্রতিবেশীদেরও সুরক্ষা বলে উল্লেখ করেন মাগুরা সিভিল সার্জন তিনি আরও জানান,মাগুরাতে আগত এ পর্যন্ত কিছূ প্রবাসীর খবর পাওয়া গেছে যারা সম্পূর্নই ঝুকিমুক্ত।

তবু তাদের সতর্কতার সাথে চলা ফেরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নতুন যারা আসবেন অবশ্যই আমাদেরকে অবহিত করবেন। এতে সবারই মঙ্গল হবে।

এখন ইনফ্লয়েন্জার সময় চলছে। এটি প্রতি বছর এই সময় শুরু হয়। এর উপসর্গ এবং করোনার উপসর্গ প্রায় একই। তাই আতংকিত হবার কোন কারন নেই। সবার সহযোগীতা থাকলে এটি প্রতিরোধে আমরা এগিয়ে থাকবো বলে আশা করি।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে যদি কোনো ব্যক্তি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করেন বা সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে ওই ব্যক্তি দণ্ডনীয় হবেন।

আইনের শাস্তি মূলক ধারায় রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী কোন এলাকায় কেউ যদি সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রতিমান হয় বা কেউ সংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করেন বা কোনও ব্যক্তি, কোনও বাসগৃহ, প্রাঙ্গণ বা এলাকায় সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবহিত হন, তাহলে তাকে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে অবহিত করতে হবে। না হলে তিনি আইনের চোখে অপরাধী। 

বাংলাদেশে করোনায় একজনের মৃত্যু

উল্লেখ্য: বাংলাদেশে করোনায় ১ জনের মৃত্যু ১৪, জন আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

সাইফুল্লাহ/এএস