সরকারের প্রভাবশালী আমলা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ,সাবেক মন্ত্রী বর্তমান এমপি এবং ব্যবসায়িদের অবৈধ সম্পদ এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চলছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গত এক বছরের অর্ধশতাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে দায়মুক্তি অর্থাৎ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুদক। এরমধ্যে প্রভাবশালী জনীতিবিদ,সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী- এমপি, আমলা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীনেতা, ব্যবসায়ি এবং ঠিকাদারদের অবৈধ সম্পদ এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেয়েছে।
তবে গত বছর দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান যোগদানের পরই রেকর্ড সংখ্যক প্রভাবশালী ব্যাক্তিকে নানা অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, দুদকে আগে নিয়মিত মাসিক প্রেস ব্রিফিং হতো। কিন্তু বর্তমান সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান দুদকে যোগদানের পর নিয়মিত মাসিক প্রেস ব্রিফিং বন্ধ হয়ে যায়। মিডিয়াকে এরিয়ে দুদকের যাবার পাশাপাশি দুদকের দায়মুক্তি বিষয়টি গোপন রাখার জন্যই মাসিক প্রেস ব্রিফিং বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ দায় মুক্তির সনদ পেয়েছেন; গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৯ কর্মকর্তা ও ১ ঠিকাদার। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাট ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছিল। হঠাৎ ওই অভিযোগের বিষয়টি নথিভুক্তির আদেশের চিঠি জারি করেন দুদক সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান।
দুদক সচিব স্বাক্ষরিত চিঠি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দফতরে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দফতরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ নথিভুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে দায় মুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
দুদকের দায়মুক্ত ওই ১০ জনের মধ্যে রয়েছে; ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক ( অতিরিক্ত সচিব) মো. ফারুক জলীল, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ব্রি: জে: মো: আহসানুল হক মিয়া, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ব্রি: জে: মো: আবুল খায়ের, প্রধান প্রকৌশলী ব্রি: জে: গাজী ফিরোজ রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ,সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর সার্কেল) আহম্মদ আলী শাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) ভারপ্রাপ্ত অঞ্চল-১ প্রকৌশলী মো. ফরহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশল বিভাগ অঞ্চল-১ মো: নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং এ টি কে এন্টারপ্রাইজের মালিক (এমডি) এস এম তৌহিদুল ইসলাম।
দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মলয় কুমার সাহার প্রতিবেদন এবং সুপারিশের উপর ভিত্তি করেই কমিশন গোপনীযতার মধ্য দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ঠিকাদারসহ ওই ১০ জনকে দায়মুক্তি দিয়েছে।
অথচ তাদের বিরুদ্ধে উত্তরায় অবস্থিত একটি রাস্তার মেরামত ও উন্নয়নের নামে একই রাস্তার দুই রকম নাম ব্যবহার করে টেন্ডার কার্যাদেশ নেয়ার মাধ্যমে অর্থ লোপাটের অভিযোগ দুদকে রয়েছে।
আর এ ব্যাপারে দুদকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, দুদকের নিয়ম মেনেই প্রাপ্ত অভিযোগের অনুসন্ধান করা হয়। তবে অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য তথ্য উপাত্ত না পেলেই দুদক সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়।সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও হয়তোবা কোনো সততা পায়নি।
গত বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটির ঢাকা ট্রেড সেন্টারের (মার্কেট) অবৈধ দোকান বরাদ্দের মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হক এবং জালিয়াতি ও অবৈধ দোকান বেচা কেনার নায়ক এএইচ এম আফজাল হোসেনকে বাদদিয়ে বাকীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
দুদক সূত্র মতে, চলতি ফেব্রুয়ারিতে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি পেয়েছেন 'দুদকের আইন বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) কামরুল হোসেন মোল্লা এবং পরিচালক আজহার উল্লা ভুইয়া।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে জামালপুর সদরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মির্জা মো. আতাহারকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দেয় দুদক।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও তার স্ত্রী সৈয়দা সেলিনা আক্তারকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয় দুদক।
জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে দায়মুক্তি দেয়া হয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরীকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় দুদক।
এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধ সনদ জালিয়াতির অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দেয় দুদক। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবৈধ সম্পদের অভিযোগের অনুসন্ধানও থেমেগেছে।
ফেব্রুয়ারিতে প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলার দায় থেকে (অব্যাহতি) দায় মুক্তি দেয়া হয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের স্ত্রী ইলা হক ও ছেলে জিয়াউল হককে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দেয়া হয়। এর আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমপিকে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ থেকে দায় মুক্তি দেয়া হয়।
জানা যায়, গত বছরের ২২ জানুয়ারি দুদক মহাজোট সরকারের সাবেক ৭ মন্ত্রী ও এমপির অস্বাভাবিক এবং বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দুদক রহস্যজনক কারণে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক এমপি,আসলামুল হক এমপি এবং এনামুল হক এমপিকে স্বপরিবারে অবৈধ সম্পদ এবং দুর্নীতির অভিযোগ থেকেদায় মুক্তি দেয়া হয়।
একে





