বনানীর ২২তলা এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ৭ জন নিহতহওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  নিহতরা আগুনে দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এই ঘটনায় ৪০ জন আহত বলে জানা গেছে।

রাজধানীর বনানী থানার পরিদর্শক ইয়াসিন এই তথ্য জানিয়েছেন।  

আগুনে নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)। এছাড়া নিরস নামে একজন রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ সাজ্জাদ গোপালগঞ্জের কাশয়ানির বালুগ্রামের নজরুল ইসলাম মৃধার ছেলে। মামুনের মৃত্যু হয়েছে ইউনাইটেড হাসপাতালে। তিনি এফআর টাওয়ারে অবস্থিত রিজেন্ট এয়ারের কর্মকর্তা ছিলেন। দিনাজপুর সদরের বালিয়াকান্দির আবুল কাশেমের ছেলে তিনি। কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান নিরস। অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা গেছেন আমিনা ইয়াসমিন।

এদিকে বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল ফারুককে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তার শরীরে ৯০ শতাংশ বার্ন। রেজাউল আহমেদের (৩৭) অবস্থা আশঙ্কাজনক। অপর আহত ব্যক্তি হলেন আবু হোসেন (৩৫)।

আরও পড়ুন: ‘সিঁড়ি না পাঠালে ধোঁয়ায় মারা যাবো’ 

                  অগ্নিকাণ্ডে আহতদের কুর্মিটোলা ও ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেকজ) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ সংকর পাল এইসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ (২৮ মার্চ) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর ভবনটির ৯ তলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে।   অগ্নিকাণ্ডে এখনো ভবনটিতে অনেকেই আটকে পড়ে আছে। এদিকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে অংশ নিয়েছেন  সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আটকে পড়াদের এয়ার লিপ্টের মাধ্যমে উদ্ধার করা হচ্ছে।  

এছাড়াও আটকে পড়াদের উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসসহ নৌবাহিনীর ফায়ার টিম এবং বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার। রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ২০ টি ইউনিট।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ স্বেচ্ছাসেবীর ভূমিকা রাখছেন। আশপাশের এলাকায় পানির সন্ধান করা, পাইপ টেনে নিয়ে যাওয়ায় দমকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে।

এমবি