ভোলা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটর দূরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী শিবপুর ইউনিয়নে জেলা সদরের অন্যতম মৎস্য আড়ৎ ঘাট ভোলার খাল।
আষাঢ়ের ইলিশের চলছে ভরা মৌসুম । ওই মৎস্য ঘাটে তখন থাকার কথা শত শত জেলে পাইকার আড়ৎদারদের। কিন্তু ঘাটে গুটি কয়েক আড়ৎদার । যেন বসে আছে তীর্থের কাকের মতো ইলিশের অপেক্ষায়। কখন জেলেরা নিয়ে আসবে রূপালী ইলিশ। কিন্তু নদীতে দেখা নেই ইলিশের। তাই জেলেরাও ফিরছে শূণ্য হাতেই ।
হ্য়োইট গোল্ড হিসাবে খ্যাত রুপালী ইলিশের দেশ ভোলায় যেন হয়ে আছে মাছ শূন্য । তাই জেলে পল্লীতে এখন চলছে চরম দূর্দিন । অনেকেই এখন এ পেশা ছেড়ে জীবিকার সন্ধ্যানে করছেন অন্য কাজ । অন্যদিকে ইলিশ সংকটের মধ্যে আসন্ন ঈদ কিভাবে কাটাবেন সে চিন্তায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন জেলেরা।
তবু জেলেরা আশায় বুক বেধে আছে কখন নদীতে মাছ পড়বে। এ অবস্থায় জেলে পূন:বাসনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় তাদের মনে ক্ষোভের শেষ নেই। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে নদীতে ইলিশ পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
সরেজমিনে ভোলার খাল মৎস্য ঘাট পর্যবেক্ষন কালে জেলেরা জানান, এ বছর মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋন করতে হয়েছে ।
অনেক আশা নিয়ে ৪ জন মাঝি মাল্লা নিয়ে নদীতে সকালে মাছ ধরতে যান। নদীতে যেতে তাদের তৈল কিনতে ব্যয় হয় ১ এক হাজার টাকা। কিন্তু ১টি ইলিশ মাছ নিয়েই দুপুরে ভোলার খালের আড়তে ফিরতে হয়। মাছটি ৪ শত টাকা ডাকে বিক্রি করেন। দাদন দারের কমিশন দিয়ে তারা হাতে পায় ৩০০ টাকা।
বাড়িতে চাল ঢাল না নিলে সকলে না খেয়ে থাকবে। তাই আবারও তাদেরকে মহাজনের কাছেই ধার কর্য করতে হয়।
তাই অনেক জেলে এখন আর নদীতে নামছে না। যারা মহাজনের কাছ থেকে বেশি দাদন নিয়েছেন তারা কেউ কেউ পেটের দায়ে নদীতে যাচ্ছে।
এক জেলে আক্ষেপ করে বলেন, “আর কয় দিন বাদে ঈদ। কতো আশায় রইছে পোলাপাইনরা। ঈদে নতুন জামা কাপড়ের জন্য। কিন্তু নদীতে ইলিশ পাইনা। অহন ভাত খাওয়ানেরই কোন উপায় নাই। কেউ কোন খোঁজ লয় না। শুধু কোস্টগার্ড জাল গুলা লইয়া যায়।”
এদিকে দুপুর ১ টার দিকে হঠাৎ ওই ঘাটে এক জেলে প্রায় দের কেজি ওজনের এক মাছ নিয়ে ঘাটে আসলো। পাইকার আড়ৎদার সকলেই ওই মাছটির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়লো। ঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানালেন, এ মৌসুমে এতো বড় আর কোন ইলিশ ভোলার খালের ঘাটে আসেনি।
তাই সেলিম পাইকার সর্ব উচ্চ সাড়ে ৪ হাজার টাকা দাম দিকে ইলিশ মাছ টি ক্রয় করেন। তিনি এই মাছ টি ঢাকার আড়তে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, জেলার ৭ উপজেলার শতাধিক ঘাটে এ মৌসুমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ইলিশ মাছ বেঁচা কেনা হতো। কিন্তু এখন মাত্র কয়েক লাখের কোঠায়। আড়ৎদার আরিফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা জেলেদের দাদন দিয়েছেন।
কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে মাছ না পাওয়ায় আড়তে অলস সময় পাড় করছি। আমাদের এ ঘাটে গত বছর এই সময় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাছ বেঁচা কেনা হতো। এখন মাত্র এক দের লাখ টাকার মাছও বিক্রি হয় না।
শুধু কিছু ছোট চিংড়ি আর বাটা মাছ মাঝে মাঝে জেলেরা নিয়ে আসে। এতে করে আড়তের শ্রমিকদের বেতন দেয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি ভোলার অধিকাংশ মৎস্য ঘাট গুলোতে।
ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ হালদার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে নদীতে ইলিশ মিলছেনা। তবে কিছু দিনের মধ্যে ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে তিনি আশা করেন।
এসএইচ





