রাজশাহীর বাগমারায় বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জনপ্রতিনিধিরা দুষছেন একে অন্যকে। সংযোগ পেতে সরকারি ফি'র বাইরে অতিরিক্ত কোন অর্থের প্রয়োজন হয় না জানিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজশাহী জেলার সবচে বড় উপজেলা বাগমারা। ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলার খাপুর, অর্জুন পাড়া, সাঁইপাড়া, চক হায়াতপুর, লাওপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম এখনও বিদ্যুৎহীন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সংযোগ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৫'হাজার ৭'শ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তারসহ আনুষঙ্গিক সব সরঞ্জাম স্থাপন করা হলেও বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সংযোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

অভিযোগের তীর যেসব জনপ্রতিনিধির উপর তারা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো দায় চাপাচ্ছেন একে অন্যের উপর।

বাসুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সব জনগণকে বলল যে, মেম্বর সাহেব ব্যবসা করে তার দোকানে গিয়ে তোমরা সবাই জমা দিও। আমার কাছে জমা দিয়েছে আমি সেই টাকা চেয়ারম্যান সাহেবকে দিয়ে দিয়েছি।’

বাসুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘না, না। ও টাকা নিয়ে পালায় আছে। ঠিকারদারদের খরচ দেয়া লাগবে, লোকদের খাবার দেয়া লাগবে ইত্যাদি কারণে কিছু টাকা আমরা জমা করার জন্য বলেছিলাম।’

অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বাগমারা জেনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ করে তাহলে আমি এটা তদন্ত করে দেখবো। এখানে কোন টাকা লাগে না। সরকারিভাবেই আমাদের শতভাগ কাজ হচ্ছে। শুধু অফিসে ৪৫০ টাকা দিতে হবে।’

পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় প্রায় ৮২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুতের আওতাধীন রয়েছেন।

এসএম