ইমাম মাওলানা জামাল উদ্দিন মসজিদ সংলগ্ন রুমে তার ৫ বছর বয়সী ছেলেকে রেখে জুম্মার নামাজ পড়াতে যান। নামাজের শেষে এসে দেখেন ছেলেসহ মৃত্যু অবস্থায় পরে আছে তিন জন।
আজ (৩০ আগস্ট) শুক্রবার আড়াইটার দিকে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার পূর্ব কলাদিয়া জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে তাদের মৃত্যু হয়। তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতরা হলো- মসজিদের ইমাম বরগুনার জামাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ (৫), মতলবের দশপাড়া এলাকার নূরানি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইব্রাহিম (১২) এবং মতলবের নলুয়া এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিফাত হোসেন (১৫)।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার দুপুরে ৫ বছরের শিশু সন্তানকে রেখে নামাজ পড়াতে যান ইমাম মাওলানা জামাল উদ্দিন। ওই সময় শিশু সন্তানের সাথে আরও ২ জন কিশোর প্রবেশ করে ইমামের রুমে। নামাজ শেষে ইমাম নিজ রুমে ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় ভেঙ্গে ইমামসহ উপস্থিত মুসল্লিরা দেখেন রুমের মধ্যে ৩ শিশু-কিশোর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। এদের দুজন মারা গেছে সেখানেই। একজনকে মতলব হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পূর্ব কলাদী গ্রামের জামে মসজিদে ইমামতি করেন মাওলানা জামাল উদ্দিন। শিশু সন্তান আব্দুল্লাহস আল নোমান (৫) বাবার সাথেই মসজিদ সংলগ্ন রুমে থাকতো। তাদের বাড়ি বরগুনা জেলায়। নোমানকে রুমে রেখেই মসজিদে প্রবেশ করেন জামাল উদ্দিন। যাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী মতলব দক্ষিণের ভাঙ্গাপাড় মাদরাসায় দুই কিশোর ইব্রাহিম (১২), রিফাত হোসেন (১৫) রুমে ছিলো।
জেলার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির জানান, শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব কলাদিয়া জামে মসজিদের ইমামের কক্ষে তাদের মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার ওই মসজিদের ইমাম জামাল উদ্দিনের বরাতে বলেন, ইমাম জামাল উদ্দিন ৩ শিশুকে তার রুমে রেখে নামাজে যান। নামাজ শেষে ফিরে গিয়ে তিনি ৩ শিশুকে অচেতন দেখতে পান বলে তার দাবি। তাদের মতলব উপজেলা কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন,“তাদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি। কোনো বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।” পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে দেখছে বলে তিনি জানান।
এমবি





