ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে বেতন-ভাতা চাইতে গিয়ে পরিচালনা কমিটির এক সদস্যের হাতে সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেমের কক্ষে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর শিক্ষকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে টানা তিন মাস ধরে ওই বিদ্যালয়ের ১৯ সহকারী শিক্ষকসহ ২৪ জনের বেতন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করতে তার কক্ষে যান। এ সময় সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার সঙ্গে পরিচালনা কমিটির সদস্য এনামুল হকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই শিক্ষককে মারতে উদ্যত হন। এনামুল হক ওই শিক্ষককে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। এ ঘটনার পর সকল শিক্ষকদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করে।

বেতনবঞ্চিত সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম ৬০ বছর চাকুরীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দফায় চাকুরীর মেয়াদ বাড়ান। কিন্তু কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা

বোর্ড তাকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানায়, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো শিক্ষকের চাকুরীর বিধান নেই। অবসর নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয় বোর্ড।

উল্টো প্রধান শিক্ষক ৬০ বছরের পর আরও তিন দফায় পাঁচ বছর মেয়াদে চাকুরী করা যায় উল্লেখ করে বোর্ডকে পাল্টা চিঠি দেন। চাকুরীতে বহাল থাকতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম ওই প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে কোনো ধরনের কাগজপত্র গ্রহণ না করার জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। এরপর থেকে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে বেতনের কথা বলামাত্রই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এনামুল হক আমাকে উদ্যত কণ্ঠে কক্ষ থেকে বের হয়ে যাবার কথা বলে চেয়ার নিয়ে মারতে আসেন। তিনি আমাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালনা কমিটির সদস্য এনামুল হক বলেন, সহকারী শিক্ষকই আমাকে মারতে আসেন। আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার কক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিক্ষকরা বেতন-ভাতার বিষয়ে আমার কাছে জানতে এসেছিলেন।

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ