নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান টিপু বলেছেন, মহাসড়কে মহামারী ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে সরকার তার নিজ দায় এড়িয়ে মহাসড়কে সিএজি অটোরিক্সা চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মহা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেছেন, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের মোট মহাসড়কের মাত্র ২% সড়কে ৪০% সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে অথচ উল্লেখিত ২% সড়ক ত্রæটিমুক্ত করার ব্যাপারে সরকারের কোন নজর নেই।
এছাড়া পরিবহন ফিটনেস পরীক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক বিশেষ ধরনের মেশিন ব্যাবহার করা হয় কিন্তু বাংলাদেশে পরিবহন ফিটনেস পরীক্ষার জন্য ঐ জাতীয় একটি মেশিনও নেই।
যে কারণে মোটরযান পরিদর্শকদের চোখের দেখার উপরই ফিটনেস সার্টিফিকেট তৈরী হয়। ফলে উপর দিয়ে ফিটফাট থাকলেও ভেতর দিক দিয়ে অধিকাংশ পরিবহনই চলাচলের অযোগ্য।
অথচ অধিকাংশ সড়ক দূঘটনার জন্য দায়ী এ জাতীয় পরিবহনই রাস্তায় চলছে অহরহ যা দেখেও না দেখার ভান করে আছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়।
তিনি বলেন, সম্প্রতিককালে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ভুয়া লাইসেন্সধারী ড্রাইভারগণ বিভিন্ন পরিবহন চালাচ্ছেন, মহামান্য হাই কোর্ট স্বপ্রনোদিত হয়ে ফিটনেস ও ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলায় সরকার নড়েচড়ে বসছে।
এ ব্যাপারে মহামান্য হাইকোর্টকে কেন নির্দেশ দিতে হবে? সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় এতদিন করেছেন কি?
সড়ক দূর্ঘটনার জন্য দায়ী গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধান না করে সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলে বিকল্প ব্যবস্থা না করে হুট করে মহাসড়কে চলাচলে অযোগ্য ঘোষণা করে সরকার একদিকে কয়েক লক্ষ মানুষকে বেকার হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে অপর দিকে সৃষ্টি করছে চরম জনদূর্ভোগ।
আর তাই মহাসড়কে সিএজি অটোরিক্সা চলাচলে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সিএজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের দাবীসমূহ মেনে নেয়ার জন্য তিনি জোর দাবী করেন।
ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিএজি অটোরিক্সা শ্রমিকদের এক মতবিনিময় সভাতে আবু হাসান টিপ এসব কথা বলেন।
গোদনাইলের এস.ও অঞ্চলে শ্রমিক ফেডারেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে আজ সকালে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা বাবুল মিয়া, মোতাহার হোসেন চৌধুরী, বাচ্চু মিয়া, শাহীন আহমেদ প্রমূখ।
এসএইচ





