বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৭ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পরে মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।
আজ (০৮ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ১৮টি ফেরির বিপরীতে থেমে থেমে চলছে মাত্র ৭টি ফেরি। পদ্মায় ২ নম্বর বিপৎসংকেত থাকায় লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এখনো প্রবল স্রোত আর বাতাস থাকায় চাহিদা অনুসারে ফেরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
গতকাল (০৭ আগস্ট) বুধবার দুপুর থেকে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে ঘাট কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা। পদ্মা পারাপারের অপেক্ষায় অনেক যাত্রীরা দুর্ভোগ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাত কাটিয়েছেন ঘাটে। ঘাটে আটকা পড়েছে গরু বোঝাই শতাধিক ট্রাক। ঠিক সময়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে না পারায় গরুর ব্যাপারীরা লোকসানের আতঙ্কে রয়েছেন।
পদ্মায় ফেরি চলাচল ব্যাহত থাকায় দুই ঘাটেই এক হাজারেরও বেশি যানবাহন আটকা পড়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, গতকাল (বুধবার) থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা বাতাস বইতে শুরু করে। এতে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌপথে পদ্মা নদীর লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়। এরপর বেলা ১টার দিকে স্রোতের মাত্রা বেড়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল সাময়িক বন্ধ করে রাখা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৩টি কে-টাইপ, ৩টি রো রো এবং ১টি মাঝারি সাইজের ফেরি চলাচল শুরু করেছে।
ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, “রাতে মাদারীপুর থেকে রওনা দিয়ে ঘাটে গেছি। সারা রাত ফেরির অপেক্ষায় ঘাটে বসে থাকতে হয়েছে। সকাল ৭ টার দিকে দুর্ভোগ আর বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অনেক কষ্টে ফেরিতে উঠতে পেরেছি।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন শিকদার বলেন, “দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পরে আমরা সকাল ৬টা থেকে ফেরি চলাচল শুরু করেছি। পদ্মায় এখনো প্রবল স্রোত ও বাতাস বইছে। তবে তা গতকাল বৃহস্পতিবারের চেয়ে কম। তাই আমরা ১৮টি ফেরির বিপরীতে ৭টি ফেরি চালাতে সক্ষম হয়েছি। এখনো স্রোত আর বাতাস থাকায় পদ্মায় চ্যানেল ঘুরে শিমুলিয়া যেতে প্রতিটি ফেরির দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে।”
এমবি





