রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে আটক শাহ আলমকে তিন দনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কুদরত এ এলাহী তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ১৫ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেইসঙ্গে শাহ আলমকে পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টা ২৭ মিনিটে ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন। এর আগে বেলা ৩টা ২৪ মিনিটে শাহ আলমকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রশিদ তার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলকে দরিদ্র পরিবারের ১৩ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শাহ আলমকে (৫৫) বুধবার রাতে নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে আটক করে পুলিশ।
গত সোমবার ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে সোমবার শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারকরা অভিযুক্ত শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এ ঘটনাটি কেন বে-আইনি হবে না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে রুল জারি করেন।
এছাড়া সোমবার শিশু ধর্ষক সমাজপতি শাহ আলমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিমের মা নুর নাহার বেগম। চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মীর শফিকুল আলম মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে ব্যবস্থা নিতে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন-অভিযুক্ত শাহ আলম ধর্ষিত শিশুটির প্রতিবেশী এবং দুঃসম্পর্কের দাদা হয়। সেই সূত্রে আসামীর অনুরোধে ধর্ষিত শিশুটি তার বাড়ীতে কাজ করতো এবং রাতের বেলায়ও ধর্ষিতাকে নাতনি উল্লেখ করে নিজের রুমে রেখে দিতেন। বাদীর সরলতার সুযোগে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে গত ছয় মাস যাবৎ ধর্ষণ করে আসছিল আসামী শাহ আলম। ফলে শিশুটি চার মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়লে বাদী অর্থ্যাৎ মা নুর নাহার বেগম শাহ আলম কর্তৃক ধর্ষণের বিষয়টি মেয়ের কাছ থেকে জানতে পারেন।
পরবর্তীতে বাদী নুর নাহার বিষয়টি আসামী শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে কাউকে এসব কথা না বলে শিশুটির গর্ভপাত করানোর নির্দেশ দিয়ে হাতে কিছু টাকা গুঁজে দেন। আসামীর কথা মত বাদীও স্থানীয় একটি হাসপাতালে শিশুটির গর্ভপাত করান। এনিয়ে গত ৮ মে রাঙ্গুনীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে হাজির হয়ে আসামী শাহ আলমের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করলে সেই শাহ আলমকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে রাত ২টায় রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ূন কবির, এস আই মজিবুর রহমান মিলে রাঙ্গুনীয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলী শাহ’র গাড়ীতে করে আসামী শাহ আলমকে থানা থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে বাদী নুর নাহার বেগম আসামী শাহ আলমের বিরুদ্ধে থানায় যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গত ৯ মে সেই অভিযোগটি ছিড়ে শাহ আলমের নাম বাদ দিয়ে উল্টো ধর্ষিতার ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে বোনের ধর্ষণকারী সাজিয়ে করা মামলায় তাদের মা নুর নাহার বেগমের স্বাক্ষর নেয়া হয়। ওই মিথ্যা মামলার ওপর ভিত্তি করে ভিকটিমের ভাইকে আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করে পুলিশ। এসময় বাদীকে আসামী ও পুলিশ আশ্বাস দেয় যে, তার ছেলে সফুরকে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের নিজ খরচে ছাড়িয়ে আনবে। পুলিশ ও আসামীর উপর্যপুরি হুমকিতে ভীত হয়ে নিজ বোনকে ধর্ষণের দায় মাথায় নিয়ে জেলের বাসিন্দা হয় ১৫ বছর বয়সী বড় ভাই সফুর। এমনকি তাদের প্রভাবের কারণে ধর্ষিতা শিশুটি ও ভাই সফুর ১৬৪ ধারা ও ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও প্রদান করে।
এঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের সরানাপন্ন হন বলে উল্লেখ করেন বাদী নুর নাহার বেগম। মামলায় মোট ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এরমধ্যে বাদী নিজে ছাড়াও ভিকটিম, মাহমুদুল হাসান, আব্দুল কাদের, আলমগীর, গিয়াস উদ্দিনকে সাক্ষী করা হয়েছে। । তাদের প্রত্যেকের বাড়ী মিনা গাজীর টিলা, শিলক, রাঙ্গুনিয়া।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নে ১৩ বছর বয়সী দরিদ্র পিতার এক শিশুর ধর্ষণকারীকে বাঁচাতে ধর্ষিতার ১৫ বছর বয়সী আপন ভাইকেই ধর্ষক সাজিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। একাজে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের তিন কর্মকর্তা ও সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী একজন জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ মদদ দেয়া ও ভিকটিমের পরিবারসহ প্রশাসনকে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেআই





