ঈদ ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। স্বজন আর প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাসায় কয়েকদিনের জন্য পাড়ি জমিয়েছিল অর্ধকোটিও বেশি মানুষ। ঈদের তৃতীয় দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটে ঢাকা প্রবেশ করছেন তারা।
মূলত ঈদের ছুটি ছিলো রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। ছুটি শেষে তাই কর্মজীবী মানুষদের ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। বুধবার প্রথম কার্যদিবসে হাজিরা দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকায় ফিরতে শুরু করে মানুষ।
বুধবার দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ এখনো ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
টার্মিনালে ৮-১০টি লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যাবার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে এম.ভি ইয়াদ, সুন্দরবন-৯, এমভি সম্রাট-২, এমভি ফারহান-৩, এমভি ফারহান-২।
লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করার মতো। লঞ্চগুলোতে আসনে জায়গা না পেয়ে অনেকে ছাদে উঠে বসেছেন।
ঢাকা ছেড়ে যাওয়া এসব যাত্রীদের প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা নদীবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৩টি লঞ্চ ঘাট ছেড়ে গেছে। বিকেলে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে অবশ্য অনেক ছাত্র-ছাত্রী ও নিন্মবিত্তের মানুষের সংখ্যা বেশি।
বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক আরো জানান, ঈদের সাধারণ ছুটি মঙ্গলবার শেষ হলেও অনেকে বুধ ও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। তারা ঢাকায় ঈদ করে বাকি তিনটি দিন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কাটানোর জন্যই আজ বিকেলে ঢাকা ছাড়ছেন।
অন্যদিকে বুধবার দুপুরে যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকেই ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে লোকজনের ভিড়। তবে বিকাল নাগাদ পুরোদমে ঢাকায় ফিরতে শুরু করবেন রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষ।
ঢাকা-সিলেট রুটে হানিফ বাসের চালক গোলাম মোস্তাফা জানান, ঈদের ছুটি শেষে আজ প্রথম কর্মদিবস। যারা চাকুরিজীবি তারা ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন। তাই সকালে একটা চাপ ছিল। তবে বিকালের পর থেকে লোকজনের চাপ আরো বাড়তে থাকবে।
তিনি বলেন, এক মাস ধরে ঢাকা ছেড়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিল। কিন্তু ফেরার সময় সবাই কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই ফিরে আসবেন। সে কারণে চাপটা থাকবে। এখন থেকে দু’চারদিন প্রচুর চাপ থাকবে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবিদের।
এরপর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফিরতে শুরু করবে। ঢাকায়্ সব মিলিয়ে আগামী ১৫ দিন পর্যন্ত এ চাপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সায়েদাবাদ টার্মিনালের শ্যামলী বাস কাউন্টার মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানুষ শুধু ঢাকায় ফিরছেন না, যারা বাইরে থেকে ঢাকা ঈদ করতে এসেছিলেন তারাও ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।
বেসকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নাভেদুল রানা জানান, ঈদে মোট তিনদিনের ছুটি মিলেছিল। গতকাল তা শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আজ(বুধবার) অফিস করতে সকালেই চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে হয়েছে।
জেইউ





